এক যুগেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই বরিশালের কলেজগুলোতে
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৩, ২২:৪১
বরিশালের সরকারি কলেজগুলোতে এক যুগের বেশী সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ছাত্র সংসদ পরিচালনার জন্য কয়েকটি কলেজে ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে কর্ম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগেই ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছে। ছাত্রসংসদ ভবনসহ ক্যাম্পাসগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করছে ছাত্রদল, শিবিরসহ সমমনা ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলো। টানা ৭ বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরে ছাত্রসংসদ সহ সবকিছুর দখল বুঝে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রদল।
গত ১৫ জুন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নগরীর সব কয়টি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল। সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই ছাত্রলীগ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। সর্বশেষ গাজীপুর সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর পুরোপুরি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছে ছাত্রলীগ নেতারা। একই সময় ক্যাম্পাসের আধিপত্য বিস্তারে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঢুকে পড়েছে ছাত্রদল নেতারা।
এখানকার ছাত্ররাজনীতির মূল কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মপরিষদ নেতা-কর্মীদের সাথে উধাও হয়ে গেছে ছাত্রলীগের অপর নেতা-কর্মীরা। অস্থায়ী কর্ম পরিষদের ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য পদ-পদবী সংবলিত ছাত্রলীগ নেতাদের শুভেচ্ছা বিলবোর্ড সহ সকল বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলেছে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। শুধু বিলবোর্ড আর শুভেচ্ছা ব্যানার ছেঁড়া নয়, ক্যাম্পাসে দফায় দফায় মহড়া দিয়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ছাত্র সংসদ ভবনের সামনের যে স্থানে ভিপি- জিএস তাদের দল- বল নিয়ে আড্ডা দিতেন সেখানেই আড্ডা দিতে দেখা যায় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের। ছাত্রদলের একক উপস্থিতিতে কোনরকম বাধা দিচ্ছে না ছাত্রলীগ। ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি খেলাফত মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র শিবিরসহ ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলোর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে ক্যাম্পাসে। তারা মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষাসহ নানান শ্লোগান সংবলিত ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে প্রকাশ্যেই দলের আদর্শগত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ছাত্রদলের পাশাপাশি প্রকাশ্যেই মিছিল- মিটিং করে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। বিনা বাধায় ক্যাম্পাসের একক নিয়ন্ত্রণ বিরোধী শিবিরের হাতে চলে গেলেও কোন টু-শব্দ করছে না ছাত্রলীগ। যে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এত রক্ত ঝরেছে ক্যাম্পাসগুলোতে তারা হঠাত্ চুপ হয়ে গেছেন। তবুও প্রশাসনের আশংকা ছাত্রলীগ পুনরায় ক্যাম্পসে ঢুকলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে তাই বাকসু ভবনসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।
বিএম কলেজের মতই অবস্থা শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসের। সেখানকার শেবামেকসু’র নামে ছাত্র কর্মপরিষদের ভিপি আবু তালিব মোঃ আব্দুল্লাহ মারুফ, জিএস আনিচুর রহমান সহ সকলেই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। শিক্ষার্থীরা জানান, সিটি নির্বাচনের পর কর্ম পরিষদের নেতাদের আর ক্যাম্পাসে দেখা মেলেনি। সরকারি অপর দু’টি কলেজের মধ্যে বরিশাল কলেজ ক্যাম্পাসের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছাত্রদল নেতাদের হাতে চলে গেছে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ গত ৪ বছর সর্বোচ্চ রক্তারক্তির ঘটনা ঘটিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত ও সমালোচিত হলেও এখন সেই ছাত্রলীগের দেখা নেই ক্যাম্পাসে। শুধু সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দেখা গেলেও মনে হয়েছে তারা একই দলের। দু’দল মিলে মিশেই আছে হাতেম আলী কলেজে। বাকী কলেজগুলোর দায়িত্ব বুঝে নিতে ছাত্রদলকে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। এক যুগের বেশী সময় নির্বাচন না হওয়া এবং ৭ বছর ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রদল হঠাত্ ক্যাম্পাসের দখল নেয়ার কারণ সম্পর্কে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ক্যাম্পাসগুলোতে সহ-অবস্থান ছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ নামধারীরা অস্থায়ী কর্মপরিষদ নামে কলেজের সর্বক্ষেত্রে প্রশাসনের সহায়তায় দখলদারিত্ব কায়েম করে। এসময় ছাত্রদল কর্মীদের নানান হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের টাকা লোপাট এবং বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শংকর চন্দ্র দত্ত’র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবি করে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাছরিন। তিনি জানান, অবৈধ কর্ম পরিষদ নয়, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছাত্রসংসদ পরিচালনা করতে দিতে হবে। সাধারণ ছাত্র- ছাত্রীদের দাবি আদায়ে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে। তারা ছাত্রলীগের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে চায়।
এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছেড়ে দিয়েছে এটা সঠিক নয়। কর্ম পরিষদ অবৈধ নয় দাবি করে তিনি বলেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির প্রেক্ষিতে কর্ম পরিষদ গঠন করে অচল ছাত্র সংসদ সচল করে হয়েছে এর সুফল সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোগ করছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি আমরা ছাত্রদলের আগেই জানিয়ে আসছি। আমরা নির্বাচনমুখী সংগঠন। শিক্ষা- শন্তি-প্রগতির ধারক ও বাহক ছাত্রলীগ যে কোন কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রস্তুত বলে জসিম উদ্দিন জানান।