নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৩
দেশের বিভিন্ন স্থানে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
সিরাজগঞ্জ:উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, কাজিপুর, এনায়েতপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং প্ল¬াবিত হচ্ছে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ রান্ধুনীবাড়ীর নদী তীরবর্তী স্থানগুলোতে বাড়িঘর, গাছপালা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রানীগ্রাম এলাকার স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও হাট-বাজার। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার ভাঙন কবলিত স্থান জরিপ করলেও ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। কাজিপুর উপজেলার বাঐখোলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধ রক্ষায় স্থানীয় লোকজন কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছর গান্ধাইল ইউনিয়নের বাঐখোলা, শুভগাছা ইউনিয়নের ঘাটি শুভগাছা, বেরেরচর, রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়ালিয়া, চিলগাছা, বাহুকা, সিমলা এলাকার বিশাল জনপদের লোকজনকে যমুনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কাজিপুরের গান্ধাইল ইউনিয়নের বাঐখোলা হতে শুভগাছা ইউনিয়নের উত্তর সীমানা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গত ৩ দিনে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণাধীন এই বাঁধটি ভাটির অংশে পানির প্রবল চাপে ভাঙন দেখা দেয়। কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা, মাইজবাড়ি, মেঘাই সদরের বালিঘুঘরি, সিমলা, পাঁচঠাকুরী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখ থেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
অপরদিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা ভবন নদীগর্ভে বিলীন হবার আশংকায় সেখানে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, চৌহালীতে মাইকযোগে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও ত্রাণসামগ্রী চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি ফ্যাক্সবার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়নে বোর্ড (বিআরই) নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সরদার জানান, যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদ সীমার ১১ সে.মি, নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন রোধে দিনরাত কাজ করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা:গাইবান্ধায় সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্ল¬াবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যায় গাইবান্ধার ১৯টি ইউনিয়নের ৫ হাজার ১২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৩০ কি.মি. সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল মোস্তফা মো. আসাফুদ্দৌলা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শুক্রবার বিপদ সীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ৫ সে.মি. ঘাঘটের পানি ৯ সে.মি. ও করতোয়ার পানি ৪৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক জানান, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, ফুলছড়ি, এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, উড়িয়া, গজারিয়া ও উদাখালী, সাঘাটার ভরতখালি, ঘুড়িদহ, জুমারবাড়ী, হলদিয়া ও সদর, সুন্দরগঞ্জের হরিপুর, কাপাসিয়া, বেলকা, তারাপুর ও চন্ডিপুর এবং সদর উপজেলার কামারজানী ও মোল্ল¬ারচর ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অন্তত ২শ পরিবার ইতিমধ্যে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে উঁচু জায়গায় আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য ২০০ টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল ও টাকা বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে।
নওগাঁ:উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আত্রাই নদী, পোরশার পুনর্ভবা নদী, মান্দার শিবু ও ফকির্নি প্রভৃতি নদীর পানি গত চার দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মান্দা উপজেলার আত্রাই ও ফকিরানী নদীর দুইপাড়ে বাঁধের অন্তত দশটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে মান্দা উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা হাটের ভেড়িবাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া আত্রাই ও ফকিরানী নদীর দুই তীরে বসবাসরত আরো শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলাগুলোর অর্ধশতাধিক পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে আত্রাই নদীর গোয়ালমান্দা, পাঁজরভাঙ্গা, চকহরিনারায়ণ, পারনুরুল্লাবাদ, বনকুড়া, কয়লাবাড়ি, পাঠাকাটা, ধামইরহাট উপজেলার নন্দনপুর ও পাটিচোরা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাঁজরভাঙ্গা হাটের গুদামঘর, দোকানপাটসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েন ভেড়িবাঁধের ভেতরের অর্ধশতাধিক পরিবার।
ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী, ছালিগ্রাম, ছিলিমপুর, ডাঙ্গাপাড়া, কুমিরদহ, বেড়ীতলা, রসুলবিল স্ল্যুইসগেট দিয়ে নদীর পানি খেলনা, অগ্রাদ্বিগুণ, আলমপুর, রসুলবিল, রসপুর, সাতবিলা, বুড়িদহ, চৌঘাট বিলে পানি প্রবেশ করে রোপা আমন ধানের চারা তলিয়ে গেছে।
গত চারদিনে কয়েক হাজার একর আবাদি জমি পানিতে ডুবে গেছে। শিমুলতলী সীমান্ত ফাঁড়ি, বেড়ীতলা একাডেমি, রাঙ্গামাটি উচ্চ বিদ্যালয় ভাঙন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাওসার জাহান জানান, পাঁজরভাঙ্গা নিচু এলাকা। প্রতিবছর ঐ স্থান পানিতে ডুবে যায়। এবারো ঐ স্থান ডুবে ৫০টি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। উপজেলার ভালাইন ও পাঠাকাটা স্থান ঝুঁকিপূর্ণ জানতে পেরে মেরামত করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার তৌহিদুল ইসলাম জানান, সলিড স্পারব্লক ও সিসি পাথর ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মোক্তার হোসেন খান জানান, মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামীতে কয়েক দিনে বড় রকম বৃষ্টিপাত না হলে কিছু হবে না।
ডিমলা (নীলফামারী):উজানের পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও প্রবল স্রোতের কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাইশপুকুরে স্বেচ্ছাশ্রম বাঁধ ভেঙে ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার জেলা প্রশাসন থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ২১ টন চাল বিতরণ করা হয়। ৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানান। পাহাড়ি ঢল ও ভারিবর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে খালিশ চাপানি ইউনিয়নের পূর্ব বাইশপুকুরে স্বেচ্ছাশ্রমের ৫০০ মিটার মাটির বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। পূর্ব বাইশপুকুর, পশ্চিম বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ী, সতিঘাট, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারীর ২ সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল, পুকুরের পাড় তলিয়ে গেছে। ২০০৭ সালে খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের তত্ত্বাবধানে পূর্ব বাইশপকুরে স্বেচ্ছাশ্রমে ৪ কিলোমিটার মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ জানান, মাটির বাঁধটি ভেঙে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধের ভাটিতে কয়েক হাজার বাড়ি তলিয়ে যাবে। বাইশপুকুর স্বেচ্ছাশ্রম বাঁধের উদ্যোক্তা সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর জরুরিভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি মেরামত করলে রক্ষা করা সম্ভব ছিল। শুক্রবার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২ হাজার ১শ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি-ভূঞাপুর-ঢাকা মহাসড়ক যমুনার ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীর পাড় অস্বাভাবিক ভাঙ্গনের ফলে মাত্র এক সপ্তাহে পিংনা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের সহস্রাধিক ঘর-বাড়িসহ কয়েক হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অস্বাভাবিক ভাঙ্গনে পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ছাড়াও সরিষাবাড়ী উপজেলা ও টাঙ্গাইলের ৬ উপজেলার মানুষ উত্কণ্ঠার মধ্যে বাস করছে। তারাকান্দি-ভূঞাপুর-ঢাকা মহাসড়ক যমুনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে না পারলে সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার বিশাল এলাকা যে কোন মুহূর্তে অকাল বন্যায় প্ল¬াবিত হবে বলে দুই জেলার মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় ভাঙ্গন এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন এ এলাকার মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ীভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (পাকা ডাম্পিং) ব্যবস্থার জন্য এলাকাবাসী বারবার দাবি জানালেও পাউবো ও সওজের মধ্যে রশি টানাটানির ফলে বিশাল এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন দিন দিন বেড়েই চলছে। এ এলাকার নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষদের জন্য এখনো সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য আসেনি বলে জানা গেছে।
গোয়ালন্দ :কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে স্রোত দেখা দেয়ায় পদ্মা তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার পানির লেভেল ছিল ৮.৩২ মিটার। উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফেরিঘাট বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও কিয়ামুদ্দিন মন্ডল পাড়া এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নের চর দেলন্দি বাঘাবাড়ির পদ্মা তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ভেঙ্গে গেছে।
পঞ্চগড় :পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের সরকারি ক্যানেলে বালির বাঁধ দিয়ে ক্যানেলের ওপর বাড়িঘর নির্মাণ করায় শিংগীয়াপাড়া, শুমপাড়া, সরকারপাড়া, লক্ষপতিপাড়া, ভূষিপাড়া, ঢাংগীপুকুরী, তিনঘরিয়াপাড়া, নাওয়াপাড়া, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়াসহ ১২ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রায় ৪শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বীজতলা, আমন ক্ষেত, বিভিন্ন ফল ও ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে পানিতে রান্না ঘর ডুবে যাওয়ায় এসব গ্রামের লোকজনদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল বন্ধ করে দেয়ায় উজানে প্রায় ৬০০ একর জমির ফসল ও মানুষের বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।