অর্থমন্ত্রীর জবাব প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের জবাব ইতিপূর্বে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে অর্থমন্ত্রীর দাবি ছিলো বিশ্বব্যাংকের দেয়া এই প্রতিবেদনের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর দেয়া জবাবটিও তারা যেন প্রকাশ করেন। সমপ্রতি এ জবাব বিশ্বব্যাংকেরওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ২৯ জুন তিনি বিশ্বব্যাংকের দেয়া প্রতিবেদনের জবাবের চিঠি সংসদে প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ওকাম্পোকে সম্বোধন করে লেখা ওই জবাবে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে তাদের এফআইআর এ আসামি হিসেবে চিহ্নিত করতে আপত্তি করেন। তবে তারা জানিয়ে দেন যে, যথাযোগ্য প্রমাণ পেলে এমপি সৈয়দ আবুল হোসেন এবং প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী সম্বন্ধে নালিশ করা হবে। কিন্তু এই বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সারা বিশ্বে ঘুষ দিয়ে কাজ আদায়ের বিষয়ে যেসব আইন-কানুন হচ্ছে তার একটি বিবরণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত কমিশন। অর্থমন্ত্রী তার জবাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশেও ঘুষ দেয়ার প্রচেষ্টা করা একটি অপরাধ। তবে এ ধরনের অপরাধের বিচার একই সময়ে কানাডা এবং বাংলাদেশে প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এজন্য আমাদের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। আমি বলি যে, এই তথ্যটিও তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হওয়া উচিত। তিন পৃষ্ঠার জবাবে অর্থমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বাতিল করার সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাংক গত বছর ২৯ জুনে নেয়। তাত্ক্ষণিকভাবে আমার মনে হয়েছে যে, সিদ্ধান্তটি ভুল, অপ্রয়োজনীয় এবং অযাচিত ছিলো এবং অত্যাধিক তাড়াহুড়া করে এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়ন গত বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে রেখেছিলো। সুতরাং ২৯ জুনে এটি বাতিল করার কোন কারণ ছিল না। বিশ্বব্যাংক তদন্ত পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের যেসব পরামর্শ আমাদের দেয় সেগুলো সবই আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা শুধু জানিয়েছিলাম যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে আমরা সরকারি কাজ থেকে দূরে রাখবো এবং যথাযথ সাক্ষ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। বিশ্বব্যাংকের এই বাতিলকরণ আমরা মেনে নেইনি এবং সেজন্য আমি বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য অনুরোধ করি। বিশ্বব্যাংক যখন ঋণটি বাতিল করে তখন এই প্রকল্পে দুর্নীতি হবার কোন সুযোগই আমরা রাখিনি।