সিলেটে ২ জন গাড়ি চোর আটক ৭শ’ গাড়ি চুরির স্বীকারোক্তি

সিলেটের চার জেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলা জুড়ে একটি সংঘবদ্ধ গাড়ি চোর চক্র গড়ে উঠেছে। এরা কৌশলে বিভিন্ন মডেলের গাড়ি, মোটর সাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়-এরা গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশও চুরি করে। এদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিস্তৃত। বিভিন্ন স্থানে তাদের লোকজন রয়েছে। এমনকি হাইওয়ের বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টেও তাদের লোক রয়েছে। তাদের ইনফরমেশনের ভিত্তিতে এসব যানবাহন বা যন্ত্রাংশ চুরি হয়। এর মধ্যে সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশ ৭ শ’ গাড়ি চুরির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দু’ জনকে গ্রেফতার করেছে। সূত্র জানায়, চুরির টার্গেটকৃত গাড়ির চাবি তৈরির লোকও এদের দলে রয়েছে। গাড়ি দেখেই চাবি তৈরি করে দেয় এরা। পরে এক দল গাড়ি চুরি করে। অন্যরা গাড়ির কাগজপত্র তৈরি করে ক্রেতা খুঁজে বের করে। এভাবেই বৃহত্তর সিলেটে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চুরি হচ্ছে। ইদানীং দামি মোটর সাইকেল চুরির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে ঢাকার একজন সিনিয়র সাংবাদিক তার নিজস্ব গাড়িতে সিলেট আসার পথে ভৈরব ব্রিজ পার হয়ে একটি রেস্টুরেন্টে উঠেন চা-নাস্তা খেতে। ২০/২৫ মিনিট পরে এসে দেখেন তার গাড়ির সামনের দিকের একটি লাইট খুলে নেয়ার চেষ্টা করছে এক চোর। গাড়ির চালক জানান, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা তেমন গরজ দেখায়নি। দিনের বেলা এ ঘটনা ও রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা উপস্থিতদের অবাক করে। এদিকে শাহপরান থানা পুলিশ গাড়ি চোর চক্রের সন্ধানে নেমেছে। তারা এ বিষয়ে বেশ অগ্রসরও হয়েছেন বলে জানান। আবু তালেব (৩৫) ও ইসমাইল (২৫) দু’ জনই গাড়ি চোর চক্রের সদস্য। আবু তালেব ৭ শ’ গাড়ি চুরির ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করলেও ইসমাইল বলছে, সে গাড়ি চুরির সাথে জড়িত নয় এবং আবু তালেবকে চেনে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এরা দু’ জনই গাড়ি চুরির অপরাধে একাধিকবার বিভিন্ন থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বহুবার জেল খেটেছে। পুলিশের ধারণা, এদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে গাড়ি চোর চক্রের বিরাট এক চক্রকে ধরা সম্ভব হবে। আবু তালেবের ৩ দিনের রিমান্ড চলছে। সে অনেক তথ্য দিয়েছে বলে জানান শাহপরান থানার ওসি আক্তারুল ইসলাম। আর ইসমাইলকে ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আবু তালেবের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার উবাহাটি গ্রামে। পেশা তালা-চাবি তৈরির মেকানিক্স। বাবা আব্দুস শহীদ একজন ছাতা তৈরির কারিগর। প্রথমে সে তার বাবার সাথে থেকে কাজ শিখে। পরে নিজেই তালা-চাবি তৈরির কাজ শুরু করে প্রায় ৭ বছর আগে। সে যেকোন গাড়ির তালা একবার দেখলে চাবি তৈরি করে দিতে পারে। তালেব জানায়, প্রথমে চাবি তৈরি করে দিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। একেকটি ডুপ্লিকেট চাবির জন্য সে ৫/৭শত টাকা নিত। পরে ধীরে ধীরে চুরি হওয়া গাড়ি বেচাকেনার সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। তালেব জানায় সে অন্তত ৫-৭ হাজার চাবি তৈরি করে বিক্রি করেছে। আর সে অন্তত ৭ শ’ চুরির সাথে জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করে। সে জানায়, তার কাছ থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম থেকেও এসে অনেকে চাবি তৈরি করে নিয়েছে। একজন ড্রাইভার খুনের ঘটনা-অত:পর শাহপরান থানা পুলিশ জানায় গত বছর জুলাই মাসে সিলেট ওসমানীনগর থানার কাগজপুরের মাইক্রোবাস ড্রাইভার আব্দাল হোসেনকে (২৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুন করা হয়। পরে তার মাইক্রোবাস ছিনতই করা হয়। এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আবু তালেব ও ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শফিক খান জানান, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সিলেট নগরীর কুশিঘাটে ড্রাইভার আব্দালকে হত্যার ঘটনায় শাহপরান থানায় মামলা হয়। পরে পুলিশ গাড়িটি কুমিল্লা থেকে উদ্ধার এবং সিলেট ওসমানীনগরের কাগজপুরের ডালিম ও কানাইঘাটের দলইমাঠি গ্রামের দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করে। এদের স্বীকারোক্তিতে আবু তালেবকে গত ৭ জুলাই ও ইসমাইলকে ৯ জুলাই গ্রেফতার করা হয়।