শেষই হচ্ছে না যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার কমছে না নারায়ণগঞ্জবাসীর কষ্ট

ঢাকার ওয়ারী এলাকায় একটি ফার্ণিচারের বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের তানভীর তুষার। প্রতিদিন বাসে অফিসে যেতে তার সময় লেগে যায় তিন ঘণ্টারও বেশি। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের হুঁশিয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে অফিসে না থাকলে চাকরি থাকবে না। বাধ্য হয়েই তুষারকে বেছে নিতে হয়েছে ট্রেন। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় বগির সংখ্যা কম থাকায় বাদুর ঝোলার মত প্রতিদিন তাকে চাকরি টিকাতে দুর্ভোগ আর কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একই অবস্থা একটি জাতীয় দৈনিকের স্পোর্টস রিপোর্টার সামন হোসেনের ক্ষেত্রে। বেশ আক্ষেপের সুরেই তিনি জানান, ‘যাত্রাবাড়ীতে উড়াল সেতুর কারণে যাতায়াতে কচ্ছপ গতি জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।’ শুধু তুষার আর সামন নয় একই অভিযোগ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা অনেক মানুষের। সকাল ৭টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা দিয়েও অনেকে ৩ ঘণ্টায়ও ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন না। এ কারণে অফিসের কর্তাব্যক্তিদের কাছে প্রায়শই বকা শুনতে হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রাবাড়ী উড়াল সেতু এখন এ রুটে চলাচলকারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। নির্মাণ কাজের কারণে প্রতিদিন সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। আর এ যটে অনেকের ব্যস্ততম মূল্যবান সময়ের অনেকটাই চলে যাচ্ছে। তিন বছর আগে অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজ। এরই মধ্যে একাধিকবার সময় নির্ধারণ করেও কর্তৃপক্ষ শেষ করতে পারেনি এর নির্মাণ কাজ। বরং দৈর্ঘ্য এবং দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় বাড়ানোয় অনেকটা লেজে গোবরে অবস্থা হয়েছে এ প্রকল্পের। নির্মাণ কাজে সমন্বয়হীনতায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছে নগরীর লাখ লাখ মানুষ। নির্মাণের আগে কথা ছিলো যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তানের মধ্যে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কিলোমিটারে। কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ করেও কাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে অন্তহীন ভোগান্তিতে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বেশ ক্ষুব্ধ এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও এলাকাবাসী। ২০১০ সালের শেষ দিকে শুরু হয় এ প্রকল্পের কাজ। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুরু থেকেই ভোগান্তিতে পড়ে এ এলাকার লাখ লাখ মানুষ। বিকল্প রাস্তা চালু না করায় অসহনীয় যানজটে পড়ে নাকাল হতে থাকে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা। নানা জটিলতা আর প্রশাসনের অসহযোগিতায় বর্তমানে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বাংশে যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ফ্লাইওভারের নির্মাণ এলাকাজুড়েই রাস্তা ভাঙ্গাচোরা, গর্ত ও কাদা-পানিতে এলাকা হয়ে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালেও কোন সুফল পায়নি। ফ্লাইওভারে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ কাজের কারণে গুলিস্তান থেকে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা হয়ে শনিরআখড়া পর্যন্ত সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা জনপথ মোড় ও সায়েদাবাদ টার্মিনালের সামনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে গর্ত। সায়েদাবাদে সড়কের মাঝখানে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। জনপথ মোড়ে প্রধান সড়কজুড়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় অসংখ্য বাস। ফলে এ পথে কোন গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এতে যাত্রাবাড়ী হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত যানজট যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সন্ধ্যার পর এ যানজট আরও ভয়াবহ রূপ লাভ করে। এ সময় যানজট কখনো যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাংরোড, যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যানজটে পড়ে এক কিলোমিটার পথ পেরুতে কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অল্প দূরত্বের যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যেতে পারলেও দূরপাল্লার যাত্রীদের সেই সুযোগ কম থাকায় তাদের ভোগান্তিটা অনেক বেশি।