গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

গাইবান্ধায় কয়েকটি নদীর পানি সামান্য কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। দুর্গত এলাকায় মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। ঘর-বাড়িতে পানি জমায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গবাদিপশুর দুর্দশা বেড়ে গেছে। সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। কোন কোন এলাকায় বিশুদ্ধ পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানিবন্দী এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ২০টি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল মোস্তফা মো. আসাফুদ্দৌলা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১২ সে.মি. কমলেও এখনো বিপদসীমার ১৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঘাঘট ও তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে। তবে করতোয়ার পানি ৩০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ৩ দিনে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ব্রহ্মপুত্র-যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জালাল জানান, তার ইউনিয়নে ৭টি পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিতে হিমসিম খাচ্ছে। এছাড়া বন্যায় এখনো ফুলছড়ি উপজেলায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। তবে সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত বন্যায় গাইবান্ধার ১৯টি ইউনিয়নের ৫ হাজার ১২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ২শ টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক গত শুক্র ও শনিবার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।