মির্জাপুর রেল স্টেশনে চোর-ডাকাতের দৌরাত্ম্য কমছে না
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৫
রাজশাহী-ঢাকা-খুলনা রেল পথে মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের তিন রেল স্টেশনের যাত্রীরা চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এসব স্টেশনে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারী না থাকায় প্রতিনিয়তই যাত্রীরা চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে টাকা পয়সাসহ মালামাল খোয়াচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। গত আট বছরে এ রোডে ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের হাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩৭ জন। গত শুক্রবার এ রুটে চলাচলকারী রেল যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলের তিন রেল স্টেশনের আশপাশের এলাকা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদকের চালান আসছে এই রোডে । চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকাসহ মালামাল লুটে নিচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করার পরও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। গত ৮ বছর ধরে টাঙ্গাইলের তিন রেল স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরা হয়রানির শিকার হয়ে আসলেও আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে এই রুটে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেবল যাত্রীদের টাকা পয়সা ও মালামাল লুটে নিয়ে চলে যেত। কিন্তু বিগত ৮/৯ বছর যাবত্ তারা যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে তো নিচ্ছেই এমনকি হত্যা পর্যন্ত করছে। যাত্রীদের হত্যার পর লাশ ট্রেন থেকে ফেলে দিচ্ছে। পত্রিকায় প্রায়শই এমন খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এভাবে গত আট বছরে অন্তত ১৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
সমপ্রতি ঢাকা যাওয়ার পথে মির্জাপুর রেল স্টেশনে ভারতেশ্বরী হোমসের এক সিনিয়র শিক্ষিকা একদল ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে মোবাইল, নগদ টাকা ও মালামাল খুইয়েছেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়রী করলেও পুলিশ মোবাইল, নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি এবং কাউকে আটকও করতে পারেনি। মির্জাপুর রেল স্টেশন এলাকায় গত ৮ বছরে সহস্রাধিক চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, রাতে- সব সময়ই যাত্রীরা চোর, ছিনতাইকারী এবং ডাকাতের কবলে পড়ছে। তারপরও প্রশাসনের টনক নড়েনি।
সংশ্লিষ্ট রেল স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বলেছেন, আনসার ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য না থাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে। মির্জাপুর রেল স্টেশন ছাড়াও টাঙ্গাইলের গারিন্দা, মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া, কালিয়াকৈরের মৌচাক ও জয়দেবপুরে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী চক্র ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। মির্জাপুরে একটি মেডিক্যাল কলেজ , কুমুদিনী হাসপাতাল, নার্সিং স্কুল ও কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস, ক্যাডেট কলেজ, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মির্জাপুর গোড়াই শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটিতে প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে তাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কলেজ ছাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে ।
এসব সমস্যার ব্যাপারে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসির) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিটি স্টেশনেই যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আনসার ও পুলিশ থাকার কথা। কিন্তু রেলওয়ে বিভাগে জনবল কম থাকায় ঐ সব স্টেশনে আনসার বা পুলিশ নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে যাত্রীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করা হবে। রেলওয়ের পশ্চিম জোনের ডিআরএম পংকজ কুমারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ট্রেনে চুরি ডাকাতি আগের চেয়ে কমে গেছে । তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে কিছু কিছু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ রুটে ট্রেনে ডাকাতি ও ছিনতাই হচ্ছে না ।