ঘোড়াশাল পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৫
ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র মোঃ শরিফুল হকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিষদের সচিব মনিরুজ্জামানের যোগসাজশে পৌর মেয়র শরিফুল হক মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীর পদে অযোগ্য ও আত্মীয় ব্যক্তিদেরকে নিয়োগদান করেছেন। মেয়র শরিফুল হক গত ২ বছরে পৌরসভার গরুর বাজার থেকে ১ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন। মেয়র নির্বাচিত হবার মাত্র ২ বছরের মধ্যে মেয়র শরিফুল ঘোড়াশালের পাইকশা গ্রামে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দোতলা বাড়ি তৈরি করেছেন। মেয়র নির্বাচিত হবার পূর্বে শরিফুল হক মুরগীর খাদ্য ব্যবসায়ী ছিলেন। মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে তিনি পৌরসভার সম্পদ আত্মসাত্ করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল শনিবার বিকালে ঘোড়াশাল পৌরসভার কাউন্সিলরগণ নরসিংদী প্রেসক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিকভাবে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতা করেন, ঘোড়াশাল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফ আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর শাহানা পারভীন, ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর সুরাইয়া মফিজ। বক্তব্যদানকালে কাউন্সিলর শরিফ আহমেদ বলেন, পৌর মেয়র শরিফুল হক একজন স্বেচ্ছাচারী ও জুলুমবাজ ব্যক্তি। পলাশের এমপি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, মেয়র শরিফুল হকের ভগ্নিপতি হবার সুবাদে তিনি পৌরসভার কাউন্সিলরদেরকে তোয়াক্কা করছেন না। ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর ২৩৯ নম্বর স্মারকে প্রকাশিত ঘোড়াশাল পৌরসভার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। ১৩ থেকে ২২ নং ক্রমিক পর্যন্ত ১৭ জন কর্মচারী নিয়োগে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এসব কর্মচারীকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
কাউন্সিলরগণ জানান, মেয়র শরফুিল পৌরসভার বাজেট প্রণয়নের পূর্বে কাউন্সিলরদের সভা আহবান করেননি। অনুগত কয়েকজন কাউন্সিলরকে নিয়ে তিনি নামকাওয়াস্তে ২০১৩-১৪ সালের বাজেট ঘোষণা করেছেন। নিজের খেয়াল খুশিমত কয়েক কোটি টাকার কাজ নিজস্ব ঠিকাদার আত্মীয়-স্বজনকে দিয়েছেন। ঘোড়াশাল পৌরসভার গরুর বাজার থেকে তার নিজস্ব লোকজন দিয়ে খাজনা আদায় করে থাকেন। এসব দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ফর্দ অভিযোগ আকারে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও নরসিংদী জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করা হয়েছে। এসব দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় পৌর কাউন্সিলরগণ মেয়র ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর রুদ্ররোষের শিকার হয়েছেন। তারা কাউন্সিলরদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তারা তাদের নিজেদের ও সন্তান-সন্তুতিসহ জানমালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।