আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ হেফাজত নেতাদের
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৮
হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্ল¬ামা শাহ আহমদ শফীর ইন্টারনেটে ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও সম্পর্কে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, তাদের শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে কয়েকজন ব্যক্তি ও কিছু সংবাদমাধ্যম অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তারা একথা বলেন। নেতারা বলেন, হেফাজতের প্রতি কোটি কোটি মানুষের সমর্থন দেখে শাহবাগী নাস্তিক ব্ল¬গার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা আল্ল¬ামা শফী সম্পর্কে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। তারা হেফাজতের ১৩ দফা দাবির ব্যাপারে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে এবার হেফাজত আমীরের চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন। শাপলা চত্বরে গণহত্যার কারণে নাস্তিকদের যখন জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে তখন জনমতকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এই কাজ করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি ওয়াজ মাহফিলে দেয়া আহমদ শফীর বক্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিরোধী’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে নাস্তিক ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে তারা ব্যাপকভাবে এই ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে। ওই ভিডিওতে আহমদ শফীর বক্তব্য নিয়ে কিছু পত্রিকা, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও টিভি চ্যানেল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। টিভি চ্যানেলে টক শো এবং বিশেষ রিপোর্ট করা হচ্ছে। তাদের ভূমিকা থেকে আহমদ শফীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠে।
হেফাজত নেতারা বলেন, ওই ভিডিওর ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশে মুসলমানরা যাতে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারেন, সেজন্য আহমদ শফী দিক-নির্দেশনামূলক ওয়াজ করে আসছেন। তিনি ‘পর্দা’ লংঘনের কুফল তুলে ধরেন সবসময়। নারী-পুরুষের বিবাহ বহির্ভূত অবাধ-অবৈধ চলাচল ও মেলামেশার ফলে যে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে তার ব্যাপারে সতর্ক করে আসছেন। পাশাপাশি বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব ও অন্ধ অনুকরণ করে ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করার কারণে সমাজে কোন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, তাও নিজস্ব ভঙ্গিতে মানুষের সামনে তুলে ধরে আসছেন। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের বিধি বিধানের ব্যাপারে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে আসছেন। আহমদ শফী স্থান কাল পাত্রভেদে ওয়াজের কৌশল অবলম্বন করে আসছেন। গ্রামাঞ্চলে গ্রামের মানুষের বোধগম্য ভাষা ও উদাহরণ দিয়ে, কখনো আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে ওয়াজ করে থাকেন। আবার শহরাঞ্চলে শহরের শিক্ষিত সমাজের উপযোগী ভাষায় ওয়াজ করেন। গ্রামে প্রচলিত উদাহরণ ও ভাষা এবং বই পুস্তকে ব্যবহূত ভাষা ও শব্দ ওয়াজে ব্যবহারকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলা যায় না। আহমদ শফীর ওই ভিডিওতে যেসব শব্দ ও ভাষাকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলা হচ্ছে, এই ধরনের শব্দ ও ভাষা বই পুস্তকে, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে, স্বাস্থ্য বিষয়ক লিফলেটে অহরহ দেখা যায়।
হেফাজত নেতারা আরো বলেন, আহমদ শফী নারীদের ঘরে বন্দী করার কথা বলেননি। পরিবারে নারীদের প্রধান দায়িত্ব কি তা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মাত্র। তিনি কখনো নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে বলেননি। প্রচলিত সহশিক্ষার কুফলের দিক তুলে ধরে তিনি এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি সামাজিক অনাচার, ব্যভিচার বৃদ্ধির কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্ল¬ামা মুহিব্বুল¬াহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর আল্ল¬ামা মুফতী ইজহারুল ইসলাম, আল্ল¬ামা আব্দুল মালেক হালিম, আল্ল¬ামা নূর হোসাইন কাসেমী প্রমুখ।