রমজানে ভেজাল পণ্য ও খাদ্যে ছেয়ে গেছে দেশ
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১০
রমজানে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সারাদেশে ভেজাল পণ্য ও বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী বাজারজাত করছে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে এসব বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী ও ভেজাল পণ্য।
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, সংযমের মাস হলেও এই মাসে ভোক্তারা অন্যান্য মাস থেকে বেশি খাদ্য সামগ্রী কেনেন। আর ভোক্তাদের এই চাহিদার কথাটি মাথায় রেখে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা নকল ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজারে ছাড়েন। কারণ এখানে অল্প পুঁজিতে লাভ হয় বেশি। তারা জানান গত কয়েক বছরে ইফতারি সামগ্রী পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান। পবিত্র রমজানে রোজাদাররা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে ইফতার ও সেহরি করতে পছন্দ করেন। তাই খাবারের টেবিলে থাকে নানা আয়োজন। তারা জানেন না বাইরে থেকে কেনা এসব খাবার মানবদেহের জন্য ভীষণ বিপজ্জনক।
অন্যান্য বছর বাজারে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে ও জিনিষপত্রের দাম মনিটরিংয়ে মাঠে ছিল মোবাইল কোর্ট। ছিল বিএসটিআই ও সিটি করপোরেশনের নানা কর্মসূচি। গতকাল শনিবার পর্যন্ত সিটি করপোরেশন ভেজাল প্রতিরোধে মাঠে নামেনি। অথচ ভেজাল প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) এক কর্মকর্তা বলেন, আজ রবিবার থেকে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে তাদের মোবাইল কোর্ট মাঠে নামতে পারে। তাও উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলে মাত্র চারটি মোবাইল কোর্ট নামার কথা।
বিএসটিআই ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা অভিযান না চালানোর জন্য সীমিত জনবলের দোহাই দেন।
ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল ফজল মীরও জানান ভেজাল প্রতিরোধ ও বাজার মনিটরিংয়ের জন্য তাদের ১৪টি মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনিও স্বীকার করেন এতো বড় শহরে এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
রাজধানীর মেট্রোপলিটন ৫০টি থানায় মাত্র ১৮টি মোবাইল কোর্টের পক্ষে ভেজাল প্রতিরোধ ও বাজার মনিটরিং করার মতো বিশাল কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রশাসনগুলোও ভেজাল প্রতিরোধে ও বাজার মনিটরিংয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, মোটা অংকের লেনদেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পায় নিয়মিত মাসোহারা।
রাজধানীতে যে যত্রতত্র ইফতারি বিক্রি হচ্ছে সেগুলোতে পুরনো তেল ও রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে। নোংরা ও আস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা এই ইফতারি। আবার খোলা আকাশের নিচেই বিক্রি করা হয় এগুলো। মশা-মাছি বসছে খাবারে। পড়ছে ধুলাবালিও।
গত কয়েক বছরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় ইফতারির বাজারে অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্ট এর প্রমাণও পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তেল একদিন ব্যবহার করার পর ওই তেল পরবর্তীতে ব্যবহার করা হলে সেটি বিষাক্ত হয়ে যায়। ব্যবহূত তেল এক দেড় মাস পর্যন্ত রেখে পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি ভেজে এসব খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হয়। বাজারে বেশিরভাগ ফল ফরমালিনযুক্ত। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা আংগুর, আপেল, আম, কলা, নাশপাতিসহ সব ফলে ফরমালিন দিয়ে রেখে দেয়। রমজান মাসে ওই বিষাক্ত ফল উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে। এই ফল শুধু রাজধানীতে নয়, গ্রামের হাট-বাজারেও ব্যাপক হারে পাওয়া যায়। মোবাইল কোর্ট বাজারে গিয়ে এই বিষাক্ত ফলের সন্ধান পেয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধ্বংসও করেছে। জেল-জরিমানা দিয়েও এ মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের দমানো যাচ্ছে না।