রোহিঙ্গা ইস্যু
মিয়ানমারকে চাপ দিতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান রুশনারার
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৩
রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইনের যুক্তরাজ্য সফরের আগে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানালেন। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, বৈধ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। খবর ভয়েস অব আমেরিকা ও রেডিও ফ্রি এশিয়ার।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইন ক্ষমতা গ্রহণের পর মিয়ানমারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি এসেছে বললেও দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি রুশনারা। তিনি বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে মিয়ানমার সরকারকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে দেয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এড়াতে পারে না। কিছুদিন আগে মিয়ানমার সফর করে গেছেন তিনি। ওই সফরের কথা তুলে ধরে রুশনারা বলেন, রাখাইনে গত বছর সামপ্রদায়িক দাঙ্গা শুরুর পর থেকে নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যে রয়েছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা। বাস্তুহারা এসব মানুষ এখনো নিরাপত্তা বাহিনী ও রাখাইনদের নিপীড়ন-নির্যাতনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ সামপ্রদায়িক দাঙ্গার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে যুক্তরাজ্য সরকারসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান লেবার পার্টির এমপি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইনের লন্ডন সফর দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগের জন্য মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার সরকারকে চাপ দেয়ার উপযুক্ত সময়।
মিয়ানমারের উপমন্ত্রী ইয়ে হাতুত বলেছেন, দেশের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্বের আইন অনুযায়ী বৈধ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এই আইনে তারাই নাগরিক বলে বিবেচিত হবে যারা ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের আগে থেকে বাস করছে। দেশটির রাখাইন রাজ্যে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে যাদের অধিকাংশকে অবৈধ বলে আখ্যা দেয় মিয়ানমার সরকার।