ভ্যাটের হার কমানো
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য কি কথার কথা?
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৭
গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) হার আগামী দুই বছর নাগাদ কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন। ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার বেশি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আলোচনা শুরু হয়েছে কেন এই সময়ে তিনি ভ্যাটের হার কমিয়ে আনার কথা বললেন। তিনি এর আগে একাধিকবার বলেছেন, তিনি আর মন্ত্রী হবেন না। সরকারের মেয়াদ শেষ প্রায়। ইতিমধ্যে এ সরকারের শেষ বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। সদ্য পাস হওয়া বাজেটেও ভ্যাটের হার কমিয়ে আনার বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই। অন্যদিকে গত বছর পাস হওয়া ভ্যাট আইনটি কার্যকরও হবে ২০১৫ সালের জুন থেকে। ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু অর্থমন্ত্রী আর মন্ত্রী হচ্ছেন না। আর ভ্যাটের হার কমিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে দুই বছর পর। এটা কি তাহলে কথার কথা? এই সময়ে অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের মানে বুঝে উঠতে পারছেন না তারা।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ‘অর্থমন্ত্রী চাইলে আইনটি এতদিনে সংশোধন করা যেত। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোন উদ্যোগ নেননি। আর সরকারের শেষ সময়ে এসে তিনি উপলব্ধি করলেন, ভ্যাটের হার কমিয়ে আনা দরকার। এই হার কমিয়ে আনা হবে। তাহলে এই কমিয়ে আনার দায়িত্ব কার? অথচ এই সরকারের সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ ছিল তার।’
নতুন আইন অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে সবাই একই হারে অর্থাত্ ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিবে। শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা এই আইনের ঘোর বিরোধিতা করে আসছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলাদেশেই ভ্যাটের হার সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন আর ভ্যাট প্রথা নেই। ভ্যাটের হার ১০ শতাংশ করা হলে আদায় আরো বেশি হবে।
ভ্যাটের হার বেশি এমন অভিযোগ পরোক্ষভাবে স্বীকার করে জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে যখন ভ্যাট ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়, তখন ‘আদায় ঠিকমত হবে না’ - এই বিবেচনায় ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে ব্যবসায়ীরা সঙ্কুচিত ভিত্তি মূল্য বা প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাট দিচ্ছেন। অর্থাত্ বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ভ্যাট দিচ্ছেন। আবার মোবাইল ফোন কোম্পানিসহ অনেক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছে।