সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবের ১১০ বছর

জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১৪ সালে গৌরবরে পর্দাপণ করবে। বিদ্যালয়টি ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে শহরের সেনুয়া নদীর মিলনস্থলের সন্নিকটে অবস্থিত জমিদার বাড়ির পাশে মিডিল ইংলিশ স্কুল রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় মিডিল ইংলিশ স্কুল রূপে অতিবাহিত পর ১৯০৪ সালের ১ মার্চ উক্ত স্থানেই শিক্ষালয়টি হায়ার ইংলিশ স্কুলে পরিণত হয়। তত্কালীন মোত্তার আলী মোহাম্মদ সরকার উচ্চ ইংরেজি স্কুলে রূপান্তরিত করেন। টাঙ্গন নদীর তীরে প্রথম প্রতিষ্ঠিত মাইনর স্কুলটিকে ১টি খড়ের আটচালা ঘর ছিল। উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর স্কুল সংলগ্ন জমিদার কাচারির একটি বড় দালান স্কুলের কাজে অনেকদিন ব্যবহূত হয়। সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় স্কুলটি স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়। স্কুল স্থানান্তরের নিমিত্তে বর্ধমানের কুসুমপ্রাম জমিদারির তত্কালীন জমিদার বিবি তৈয়বা খাতুন দশ বিঘা সাড়ে পনের কাঠা জমি দান করেন। উক্ত জমির উপর ১৯০৬-০৮ সালের মধ্যে স্কুলের সর্ববৃহত্ ভবন নির্মিত হয় এবং ১৯০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে স্কুলটি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। এরপর স্কুলের নতুন হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের জন্য আরও এক একর জমি ১৯৬০-৬৩ সালের মধ্যে হুকুম দখল সূত্রে আয়ত্ত করা হয়। পরে ওই জমিদার বাড়ির ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে ‘ঠাকুরগাঁও হাইস্কুল’ নামে পরিচিতি পায়। স্কুলের পরিচালনা পরিষদের দায়িত্ব পালন করেন তত্কালীন দিনাজপুর জেলার তদানীন্তন জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট জিফারিস। ১৯০৪ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ৪জন পদাধিকার বলে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে। স্কুটির মঞ্জুরির জন্য ১৯০৪ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হলেও ১৯১০ সালের শেষ দিকে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি লাভ করে। ১৯৩৫ প্রাদেশিকীকরণের পর জেলা প্রশাসক সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেক্রেটারিগণ মনোনীত হয়ে আসছেন।১৯৬৭ সালের ১ আগস্ট স্কুলটি প্রাদেশিকীকৃত(সরকারি) হলে ‘ঠাকুরগাঁও গভ: হাইস্কুল’ পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে অভিহিত হয়। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হলে স্থানীয়ভাবে স্কুলটি ‘ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নামে পরিচিত। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণীতে ১৮০০ জন শিক্ষার্থী পাঠ দান করছেন। প্রায় ১ শতাব্দী ধরে জেলায় শ্রেষ্ঠ ফলাফলের খ্যাতি ধরে রেখেছে বিদ্যালয়টি।