দুর্ভোগে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত জনপদ
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৪
বিদ্যুত্ বিহীন জীবনযাপন ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ছাড়াও যখন তখন বিএসএফ এর গুলির ভয়ে আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন ঠাকুরগাঁও জেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামাঞ্চলে মানুষ।
কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকে আসা গুলির ভয়ে মাঠের কাজসহ নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় দৈনন্দিন কাজও বন্ধ করে দিতে হচ্ছে তাদের।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, রানিশংকৈল, হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলাগুলো জুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। এসব এলাকার সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া। সারাক্ষণ বিএসএফের টহল। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে সার্চ লাইট। রাত ৮টার পর থেকেই গভীর নিস্তব্ধতা নামে এসব সীমান্ত গ্রামে। বিদ্যুত্ না থাকায় সন্ধ্যার পরই পুরো এলাকা জুড়ে নামে ভূত?ুড়ে অন্ধকার।
এসব দুর্ভোগের বাইরেও রয়েছে বেহাল রাস্তাঘাট। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমেই এর অবস্থা হয়ে ওঠে অবর্ণনীয়। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তির কোনো অন্ত থাকে না। এবারো বর্ষা আসতে না আসতেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে।বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্ত এলাকা চড়ইগেদি গ্রামের রফিজ উদ্দিন জানান, এ এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ নেই। অর্থের অভাবে অনেকেই কেরোসিন তেল কিনতে পারেন না।তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মুম?ূর্ষু রোগী চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। উত্পাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হিমশিম খেতে হয়। এসব এলাকায় নেই গভীর নলকূপ। তুলনামুলক উঁচু কৃষি জমিগুলোতে আবাদ করতে ন?ানা প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়। ফলে প্রতিনিয়ত ফসলের উত্পাদনও কমতে শুরু করেছে।এদিকে, ভারত-বাংলাদেশ বিভক্তকারী নাগর ও কুলিক নদীতে প্রতিবছরই কিছু জমি জেগে ওঠে এবং কিছু জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে প্রতিবছরই বাংলাদেশি অংশের কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্ট জমিতে চাষের সময়ও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন না কৃষকরা। সবসময়ই তাদের মনে রয়েছে ওপার থেকে ছুঁটে আসা গুলির ভয় কাজ করে। জীবন-জীবিকার তাগিদে সীমান্ত এলাকার অনেকেই নদীতে মাছ ধরার কাজ করেন। কেউ কেউ গরু-ছাগল চরান নোম্যান্স ল্যান্ডে। কিন্তু বিএসএফ এর সশস্ত্র অবস্থানের আনাগোনা দেখলেই কাজ ফেলে ভয়ে পালিয়ে আসতে হয় তাদের। সীমান্ত পারের কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, ভয় নিয়েই সীমান্ত পারের জমিতে কাজ করতে হয়।