শেয়ারবাজারের লেনদেনে বড় পতন

গতকাল রবিবার শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে। পাশাপাশি লেনদেনে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও বাজারে লেনদেনে বড় ধরনের পতন হয়েছিল। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৩০ কোটি টাকা কমেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন কমেছিল ৩১০ কোটি টাকা। ফলে দুই কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসই’র লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা থেকে পাঁচশ’ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামা থাকবেই। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং এটিই বাজারের স্বাভাবিক গতি। কিন্তু লেনদেনের গতি এতটা অস্বাভাবিক হওয়া ইতিবাচক নয়। কারণ এর মাধ্যমে বুঝা যায়, বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। কিছু বিনিয়োগকারীর মাধ্যমেই বাজারে লেনদেন ওঠানামা করছে। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মূল্যসূচক ৮১ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৬০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৩০ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। যা আগের দিনের তুলনায় ১২৯ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৮৫টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ২২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের। আইডিএলসি’র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় গতকালও বাজারে বিক্রির চাপ ছিল। ফলে সূচক কমেছে। তবে রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হওয়াও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গতকাল দরপতনের ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল জীবন বীমা খাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য ও নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও দাম কমার শীর্ষে ছিল। এদিকে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য ছিল জ্বালানি খাতের। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ১৬১ কোটি টাকা। যা ডিএসই’র মোট লেনদেনের প্রায় ২৮ ভাগ।