সরকারি চাকরি
দেরিতে হলেও কোটা ব্যবস্থা র্যাশনালাইজ করুন
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২০:৪৩
বিসিএস পরীক্ষায় যারা কোনো ‘কোটা’র মধ্যে পড়েন না, সাধারণ চাকরিপ্রার্থী বলেই তাদের সম্বোধন করা উচিত। তাদের ধৈর্যের প্রশংসা করতে হয়। ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রার্থীকে তথাকথিত কোটার আওতায় সরকারি চাকরিতে নেয়া হচ্ছে এতগুলো বছর ধরে; অথচ এর বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন গড়ে তুললেন এতদিন পর! আন্দোলনের ধরন বা কৌশল নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু এর ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। রাস্তায় নেমে এসে এ পর্যন্ত তারা যা যা করেছেন, এর একাংশ অবশ্যই নিন্দনীয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধিতা করতে গিয়ে তাদের ঢালাওভাবে গালমন্দ করা, ঢাবি এলাকায় গিয়ে এখানে-ওখানে ভাঙচুর চালানো ঘৃণ্য কাজ বৈকি। আমরা দেখেছি, ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনেও অনেক সময় ঢুকে পড়ে অপশক্তি। তারা পরিস্থিতি ঘোলা করতে চায়। বিসিএসের সাধারণ প্রার্থীদের আন্দোলনেও এমনটি ঘটে থাকতে পারে। ঢালাও গ্রেফতার ও হয়রানি না করে সরকারের এখন উচিত হবে অপরাধীদের খুঁজে বের করা। যাদের আন্দোলনের চাপে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) অন্যায়ভাবে প্রকাশ করা ফলটি স্থগিত করেছে এবং বলেছে এটি পুনর্বিবেচনার কথা— তাদের তো অপরাধী বলা যায় না। পিএসসি সিদ্ধান্তটি জানানোর পরদিন এবং তার পরেও সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এজন্য যে, তারা শুধু ৩৪তম বিসিএস নয়— সরকারি চাকরি লাভের পুরো পদ্ধতিটিরই সংস্কার চাইছেন। রাগের বশীভূত হয়ে তারা হয়তো এ ক্ষেত্রে সবরকম কোটারই অবসান দাবি করছেন বা করেছেন; কিন্তু মূল কথা হলো এর সংস্কার। দশকের পর দশক ধরে সরকারি চাকরিতে ৫৫-৫৬ শতাংশ লোক নেয়া হবে কোটার ভিত্তিতে, এটা তো কোনো কাজের কথা নয়। শুনতেও কেমন লাগে! ভাবতে অবাক লাগে, লাখ লাখ সাধারণ চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর এভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন; তবু পথে নামেননি। এবারও হয়তো নামতেন না— যদি কোটায় নিয়োগদানের কাজটি ‘সফলভাবে করতে’ পিএসসি প্রিলিমিনারিতেই এ পদ্ধতির প্রয়োগে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে অভূতপূর্বভাবে বঞ্চিত না করত। পিএসসিকে এক অর্থে দোষও দেয়া যাবে না। তারা দেখছেন, বছরের পর বছর ৫৬ শতাংশ কোটায় নিয়োগদান করতে গিয়ে অনেক আসন বরং ফাঁকা রাখতে হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী সেগুলোয় সাধারণ প্রার্থীদের নিয়োগও দেয়া যাচ্ছে না। মেয়াদের শেষ বছরে সরকারের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংস্থাটি এমন কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল কিনা, এ নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন দেখছি না। হতে পারে, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজ’ করতে গিয়ে তারা নিজেরাই এমন একটা বুদ্ধি বের করেছিলেন। ভাবেননি— এতে প্রাথমিক পর্যায়েই অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী ব্যাপারটা কীভাবে নেবেন। দশকের পর দশক কোটা পদ্ধতির শিকার হতে হতে একটা পর্যায়ে এমন একটি ঘটনায় তারা সরাসরি নেমে এলেন রাজপথে। অবস্থান নিলেন আবার বিখ্যাত শাহবাগে। কিছুটা দাবি আদায় তারা করে ফেলেছেন এর মধ্যে। বাকিটা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাতও করেছেন তারা।
একটি গণতান্ত্রিক দেশে সব ক্ষেত্রেই ‘সুযোগের সমতা’ থাকবে, এ নিয়ে নতুন করে তর্কের তো কোনো প্রয়োজন নেই। সংবিধানের কোথায় এটা লেখা আছে, সেসব ঘাঁটাঘাঁটিরও দরকার নেই কোনো। সংবিধানে না থাকলে এটা নতুন করে লিখতে হবে। ওখানে এটাও থাকার কথা যে, সমাজের ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’কে এগিয়ে দেয়ার জন্য শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা বা কোটা থাকতে পারে। এ দুটো সাংঘর্ষিক নয়। সাংঘর্ষিক হবে তখনই, যখন দেখা যাবে কোনো ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার হচ্ছে না দীর্ঘদিনেও; বরং সেটি গিলে ফেলতে উদ্যত হয়েছে ওই ক্ষেত্রটিকেই। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বেলায় এমনটাই ঘটে চলেছে এবং তা নিয়ে অন্তত সরকার বাহাদুরের কোনো মাথাব্যথা দেখছি না। তারা দিব্যি একের পর এক আসছেন আর পিএসসিকে বলছেন- বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রজাতন্ত্রের সেবায় কিছু জনবল বেছে দিতে। একেক সরকারের আমলে কোটা পদ্ধতির একেক ধরনের অপপ্রয়োগের খবরও পাওয়া যায়। অভিযোগ আকারে প্রচারিত এসব খবরের আবার গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি হয় না। বিসিএসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের উপর্যুপরি ঘটনা রয়েছে; আছে ঘুষের অনেক অভিযোগ; রয়েছে নম্বর বাড়িয়ে-কমিয়ে দেয়ার ঘটনা। এসব দিকে না গিয়ে আমরা যদি ধরেও নিই যে, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সদ্ব্যবহারই করছে পিএসসি; তাহলেও বলতে হবে, এটি এভাবে আর চলতে পারে না। এরই মধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে বিষয়টি ‘অ্যাড্রেস’ করতে। সরকারি চাকরিপ্রার্থী সাধারণরা এবারের মতো আন্দোলনে নেমে আসেননি তো কী হয়েছে— জনপ্রশাসনের ভেতর থেকেও কিন্তু একাধিকবার সুপারিশ করা হয়েছে কোটা পদ্ধতি ‘র্যাশনালাইজ’ (যৌক্তিক) করে তুলতে। কিন্তু কোনো সরকারই রা করেনি। জেনে অবাক হতে হয়, ১৯৭৭ সালেই তত্কালীন পে ও সার্ভিস কমিশনের প্রায় সব সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা রাখার বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের একজন মাত্র সদস্য এর পক্ষে ছিলেন এমন যুক্তিতে যে, পরবর্তী ১০ বছরে এটা ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে বিলুপ্ত করা হোক। সে কাজটিও হয়নি। ১৯৯৬ সালে যে দলের সরকার গঠিত হয় দীর্ঘ ২১ বছর পর, তারা (রাজনৈতিক বিবেচনাতেই বোধহয়) মুক্তিযোদ্ধা কোটা নতুনভাবে প্রয়োগ করতে শুরু করেন। সনদধারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সরকারি চাকরি লাভে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। পরবর্তী চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এর কী ধরনের প্রয়োগ হয়েছে কে জানে; তবে নিয়মটি বাতিল হয়নি। এ আমলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে অনেকের। এ তালিকাভুক্তি ও সনদপ্রাপ্তি নিয়ে দুর্নীতি ছিল স্বাধীনতার পর থেকেই। সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা লাভের সুযোগ সৃষ্টির পর দুর্নীতি স্বভাবতই আরও বেড়েছে। এটাও সত্য, অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সনদ নিতে উত্সাহ দেখাননি। দেশ স্বাধীন করতে পেরেই তারা তৃপ্ত; রাষ্ট্রের কাছ থেকেও স্বীকৃতি ছাড়া এজন্য বিশেষ কোনো সুবিধা চাননি তারা। তারাও নিশ্চয় লক্ষ্য করছেন, সনদধারী মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনী ও পোষ্যদেরও এখন অগ্রাধিকারভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে সরকারি চাকরিতে। এসব কোটা পূরণ না হওয়ায় অর্থাত্ অনেক শূন্য পদ থেকে যাওয়ায় ‘বিশেষ বিসিএসেরও’ আয়োজন করছে পিএসসি; তবু সাধারণ প্রার্থীদের ভেতর থেকে চাকরি দেয়া হচ্ছে না বা করা যাচ্ছে না সেটি। একটু পুনরুক্তি হলেও বলি, এবার এ ঝামেলা এড়াতেই নাকি চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে প্রিলিমিনারিতেই কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়েছিল পিএসসি। তাতে এক অর্থে ভালোই হয়েছে— অন্যায় প্রতিকারের দাবি উত্থাপনের সুবাদে সামনে চলে এসেছে এতদিন আড়ালে থেকে যাওয়া অন্যায্য কোটা পদ্ধতিটাই।
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এক কাতারে ফেলে দেখাটা খুব ভুল হবে। অন্যান্য কোটা নিয়েও প্রশ্ন আছে; তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি সামনে এসেছে স্বাধীনতার চার দশক পরেও এটির আকার ও অভিনব প্রয়োগ দেখে। সনদধারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/নাতি-নাতনী/পোষ্যদের জন্যও ৩০ শতাংশ প্রথম শ্রেণীর সরকারি পদ সংরক্ষিত রাখাটা কোনোভাবেই যৌক্তিক কি? তাদের ভেতর থেকে কোটা পূরণও তো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের নীতি কি তাহলে এভাবে কিছু শূন্য পদ রেখে দেয়া? জনপ্রশাসনের আকার ছোট রাখা এবং একই সঙ্গে সেটিকে দক্ষ করে তোলা অবশ্য ভালো। কিন্তু দশকের পর দশক কোটার ভিত্তিতে সিংহভাগ নিয়োগ দিয়ে (অর্থাত্ কম মেধাবীদের বেশি করে প্রশাসনের সামনের কাতারে নিয়ে এসে) সে লক্ষ্য অর্জন কি আদৌ সম্ভব? সম্ভব যে হচ্ছে না, সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। সময়ান্তরে এমনিতেই সরকারি চাকরির প্রতি আর তেমন আকর্ষণ নেই। উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রা, দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি খাতে চাকরি, এমনকি আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়াস অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এখন। অনেকেই নিশ্চয় লক্ষ্য করে থাকবেন, এবারকার বিসিএসে কী হলো না হলো— বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন উত্সাহ নেই। তা সত্ত্বেও এটা বলতে হবে, সাধারণ শিক্ষার্থীর অনেকেরই লক্ষ্য এখনো সরকারি চাকরি। সেটি বিসিএসের মাধ্যমে হলে তো আরও ভালো। অতীতে কোটার নামে কী হয়েছে না হয়েছে, এ নিয়ে তারা কিন্তু মাথা ঘামাতেন না— যদি সময়ে সময়ে পদ্ধতিটা র্যাশনালাইজ করা হতো। সরকার কি রাষ্ট্রায়ত্ত খাতকে র্যাশনালাইজ করেনি? মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও কি র্যাশনালাইজ করা হয়নি? সামরিক-বেসামরিক, বিএনপি-আওয়ামী লীগ নির্বিশেষে সব সরকারই এটা করেছে। সুস্পষ্ট সুপারিশ সত্ত্বেও তারা শুধু পরিবর্তন করতে উদ্যোগী হননি জনপ্রশাসনে নিয়োগের ধারা। এটাও বলতে হয়, পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা প্রশাসন পরিচালনা করছেন দলীয় রাজনৈতিক মনোভাব থেকে। সিংহভাগ নিয়োগ নানারকম কোটার ভিত্তিতেই শুধু দিচ্ছেন না, তাদের পদায়ন-পদোন্নতিও দেয়া হচ্ছে রাজনৈতিক এবং সেইসঙ্গে গোষ্ঠীগত বিবেচনায়। তাতে জনপ্রশাসনের অদক্ষতা যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, সঙ্গে বেড়ে চলেছে দুর্নীতি। কোটার ভিত্তিতে ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ এবং উদ্দেশ্যমূলক পদায়ন ও পদোন্নতি দিয়ে দিয়ে এক একটি রাজনৈতিক সরকার প্রশাসনকে এমন অবস্থায় রেখে যাচ্ছে যে, একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানেও এতে ব্যাপক রদবদল আনতে হচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা অনেক উন্নতি করেছি সন্দেহ নেই, এর কোনো কোনো দিক নিয়ে গর্বও করতে পারি; কিন্তু জনপ্রশাসনকে যে আমরা অব্যাহতভাবে বিনষ্ট করে চলেছি, সেটা মানতে হবে। এর একটা বড় কারণ মেধার বদলে কোটাকে গুরুত্ব দিয়ে দশকের পর দশক ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগদানের অদ্ভুত ব্যবস্থা। ‘অপরিবর্তনীয়’ ধরে নিয়ে কেউ আমরা এর গায়ে হাত দিচ্ছি না। হাত দিচ্ছি না বলেই কিন্তু বেমক্কা দাবি উঠেছে ক্ষিপ্ত আন্দোলনকারীদের ভেতর থেকে। ইন্টারনেটে বিভিন্নভাবে যারা মতামত দেন, তাদের মধ্যেও লক্ষ্য করছি সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ। ক্রুদ্ধ হয়ে তারা যা খুশি বলছেন। সরকারকে এর মর্ম বুঝতে হবে। নজরুল লিখেছিলেন, ‘দেখিয়া-শুনিয়া খেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে’! তবে এই লেখকের মনে হয়, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনের মতামত নিয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি র্যাশনালাইজ করা হলে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ দ্রুতই কমে আসবে। উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে প্রকৃত ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’কে বিশেষ সুযোগদানের বিষয়ে একটা ঐকমত্য আমাদের মধ্যে রয়েছে বৈকি। নইলে এতগুলো বছর ৫৫-৫৬ শতাংশ চাকরিপ্রার্থীকে নেয়া যায় মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা রকম কোটার আওতায়? দুনিয়ার অনেক অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশেই স্বাধীনতার পর জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সহায়তায় তারাও বহাল রেখেছে এবং নতুন করে নিয়েছে কোটার আশ্রয়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পন্থাও বের করেছে তারা। এদিকে আমরা সরকারি চাকরিতে পদ শূন্য রেখেও বছরের পর বছর ৫০ শতাংশেরও বেশি কোটা আঁকড়ে ধরে পড়ে আছি নির্বিকারভাবে। এটা কোনো কথা হলো? পরিবর্তিত সময়ে নারী, জেলা, আদিবাসী প্রভৃতি কোটার যৌক্তিকতা ও হার পুনর্বিন্যাস করাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে। জনপ্রশাসনে নিয়োগ হতে হবে প্রধানত মেধার ভিত্তিতে; পদায়ন ও পদোন্নতি হতে হবে বাস্তব প্রয়োজন ও কর্মদক্ষতার নিরিখে। সরকারি প্রশাসনযন্ত্রকে উত্তরোত্তর বাড়িয়ে চলাও ঠিক হবে না। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা তো বাড়াতে হচ্ছে। বাজেটে প্রশাসন পরিচালনা বাবদ ব্যয় বাড়ছে অব্যাহতভাবে। এটা নিয়ন্ত্রণে রেখে আমাদের বরং উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো দরকার। এর মান বৃদ্ধিতে উন্নয়ন প্রশাসনের দিকেও রাখতে হবে বিশেষ দৃষ্টি।
লেখক : সাংবাদিক
hmamun67@gmail.com