বিসিএসে কোটা পদ্ধতি বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে কোটা পদ্ধতি বাতিলের আবেদন জানানোর পাশপাশি রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও শিক্ষা সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। ৩৪তম বিসিএসে অংশ নেয়া এসএম আসাদুজ্জামান ও মো. হারুন অর রশীদ নামে দু’জন পরীক্ষার্থী কোটা পদ্ধতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এ রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/নাতি-নাতনি, আদিবাসী, নারী, জেলা কোটা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত ৫৬ ভাগ কোটা কেন বাতিল ও প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে আদালতের নিকট রুল জারির প্রার্থনা করেছেন। পাশাপাশি রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় তাদের উত্তরপত্র তলবের জন্য আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। আবেদনকারীদের পক্ষে এডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ গতকাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান কোটা অনুযায়ী বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পিএসসি যদি ১০০ জন লোক নিয়োগ করে তাহলে মাত্র ৪৫ জন নিয়োগ পাবেন মেধার ভিত্তিতে। ৩০ জন নিয়োগ পাবেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মধ্য থেকে, ১০ জন নারী কোটায়, ১০ জন জেলা কোটায় এবং ৫ জন নিয়োগ পাবেন উপজাতি কোটায়। এছাড়া গত বছর থেকে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা চালু করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী পাওয়া না গেলে মেধার ভিত্তিতে ওই শূন্য পদ পূরণ করার বিধান রয়েছে। আবেদনে কোটার এই হার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এভাবে লোক নিয়োগ করা হলে দক্ষ ও মেধাবীরা সরকারি চাকরি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া কোটা পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে অনেক অযোগ্যরা চাকরি পাবেন। যা ভবিষ্যতে সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।