হরতালের সমর্থনে জামায়াত শিবিরের মিছিল, ভাংচুর
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৪
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আজমের রায়কে কেন্দ্র করে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সময় মহাখালীতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা জামায়াতের আমীর আবু আল ইকবাল (৪৫) নিহত হয়েছে বলে জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে ঐ ব্যক্তি মহাখালীতে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলাম পুলিশের একটি রিক্যুইজিশন করা মাইক্রোবাস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। এছাড়া মগবাজার, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবির হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ঐসব এলাকায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে বিজয়নগর বক্সকালভার্ট রোড সংযোগ স্থলে ঝটিকা মিছিল করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পুলিশ মিছিলকারীদের ধাওয়া করলে তারা কস্তুরী হোটেলের গলিতে ঢুকে পড়ে। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের রিক্যুইজিশন করা মাইক্রোবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মিছিলকারীরা রাস্তায় তিনটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পল্টন থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন মোটর সাইকেলে করে সেখানে পৌঁছালে মিছিলকারীরা তাকে পিটিয়ে জখম করে এবং মোটর সাইকেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আরো পুলিশ সেখানে পৌঁছায় এবং রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর আহত আলমগীর হোসেনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিকাল ৪টার দিকে গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় ছাত্রশিবিরের ২০/২৫ জন কর্মী মিছিল বের করে। মিছিলটি শাহজাদপুর সুবাস্তু নজরভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছালে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা র্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে ২টি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেল দুইটি রাস্তায় প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পুলিশ ও র্যাব মিছিলকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় মিছিলকারীরা সেখানে একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে। পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছুঁড়লে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অন্যদিকে মগবাজার মোড়ে বেলা ৩টার দিকে জামায়াত-শিবির হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশ মিছিল থেকে ৫ শিবিরকর্মীকে আটক করে। মিছিলকারীরা সেখানে পরপর ৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তারা রাস্তায় দুইটি মিনিবাস ভাঙচুর করে।
রাজধানীর মহাখালীতে পুলিশের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে জামায়াতের এক নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর ঐ নেতাকে পুলিশ আটক করার পর ছেড়ে দিলে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। নাখালপাড়ার বাড়িতে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। এই ঘটনাটিকে জামায়াতে ইসলামী তার ওপর পুলিশের হামলা হয়েছে বলে প্রচার করছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের ঐ কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা আড়াইটার দিকে মহাখালীতে জামায়াতে ইসলামী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর মহাখালী পুলিশ বক্সের কাছে আবু আল ইকবাল (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামী তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আমীর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে মেট্রোপলিটন হসপিটালে ভর্তি করা হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। রাজধানীর নাখালপাড়ায় আবু আল ইকবালের বাসা।
অন্যদিকে বনানী থানার ওসি ভুঁইয়া ইকবাল হাসান জানান, মহাখালীতে জামায়াতে ইসলামীর কোন মিছিলের ঘটনা ঘটেনি। জামায়াতের ঐ নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর মহাখালীতে জামায়াতে ইসলামী মিছিল করেছে—এমন ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে বলে ওসি দাবি করেন।
চট্টগ্রামে শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ, ৫০ গাড়ি ভাঙচুর,
সার্জেন্ট আহত চট্টগ্রাম অফিস
নগরীর স্টেশন রোডে গতকাল পুলিশের সাথে শিবিরকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কবির সরকার নামে এক ট্রাফিট সার্জেন্ট আহত হয়েছেন। তার মোটর সাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় শিবিরকর্মীরা। পরে শিবিরকর্মীরা বিআরটিসি মোড়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। প্রায় ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরাতন রেল স্টেশন থেকে শিবিরের অন্তত ২০০ কর্মী হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া করলে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এরপর মিছিলকারীরা বিআরটিসি মোড়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইফতারের আগ মুহূর্তে পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। এ প্রসঙ্গে সিএমপি কোতয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার শাহ আব্দুর রউফ ইত্তেফাককে বলেন, শিবিরকর্মীদের মিছিল থেকে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে আহত ২ শিবির কর্মী
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও গুলিতে ২ শিবির কর্মী আহত হয়েছে।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির যৌথ উদ্যোগে এক ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট পৌর মার্কেট থেকে করালিয়া দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। এ সময় ছাত্র শিবিরের ২ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়। আহতদের গোপনে চিকিত্সা দেয়ার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন জানান, ২ শিবির কর্মী আহত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, মিছিলটি আমাদের নজরেই পড়েনি। গুলি করার প্রশ্নই উঠে না।
সাতক্ষীরায় ককটেল বিস্ফোরণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, আগামী কালের হরতাল সমর্থনে গতকাল বিকালে সাতক্ষীরা শহরের অদূরে কদমতলা এলাকায় ৮টি ককটেল বিস্ফোরণ, ২টি গাড়ি ভাঙচুর ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা শিবির সভাপতি রোকনুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।