পদত্যাগের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন আশরাফ
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৮
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগের খবরকে গুজব বলে হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তার পদত্যাগের যে খবর প্রকাশ হয়েছে, তা নিছক গুজব। আর গুজবের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান না বলেই সংসদ অধিবেশন কক্ষে ঢুকে পড়েন সৈয়দ আশরাফ।
এর আগে রবিবার কয়েকটি সংবাদপত্রে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। একের পর এক সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবির দায় স্বীকারকরে নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও এসব খবরে বলা হয়। এ খবরে গতকাল সকাল থেকেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। দলের সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। এসব নেতাকর্মী খবরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্নভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও শুরু করেন। অনেকেই গণমাধ্যমগুলোতেও ফোন করে এর সত্যতা জানতে চান। তবে গতকাল পদত্যাগের খবর নাকচ করে সৈয়দ আশরাফের দেয়া বক্তব্যে সব বিভ্রান্তি শেষ হয়।
পাঁচ সিটি নির্বাচনের কোনো পর্যায়ে কোনো ভূমিকা না থাকার কারণে সৈয়দ আশরাফ কিছুদিন ধরেই দলের মধ্যে সমালোচিত হয়ে আসছিলেন। ১৫ জুন রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পর নেতাকর্মীদের আশা ছিল, গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত দলীয় সাধারণ সম্পাদক সক্রিয় হবেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটেনি। গাজীপুরের নির্বাচনের অধিকাংশ সময়ই তার কেটেছে বিদেশ সফরেই। এমনকি পরাজয়ের পর তারপক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো বক্তৃতা-বিবৃতিও দেয়া হয়নি। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী দলের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কারণে আওয়ামী লীগের তত্কালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের বিতর্কিত ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফকে তখন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। পরে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিশাল বিজয় ও ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলেও তিনি একই পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন।