ভারত থেকে বিপুল পরিমান পিঁয়াজ আমদানির পরও দাম কমছে না

বাংলাদেশে পিঁয়াজের দাম চড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানি বেড়ে গেছে। বেনাপোল, ভোমরা, সোনা মসজিদ ও হিলি বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমান পিঁয়াজ ঢুকছে। এ পিঁয়াজ খালাসের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর বন্দরে চালান পাঠানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশে উত্পাদিত পিঁয়াজ রয়েছে। তবু পিঁয়াজের দাম কমছে না। এদিকে নতুন প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ভারত থেকে আমদানি করা পিঁয়াজের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ভোমরা, সোনা মসজিদ ও হিলির বেশির ভাগ পিঁয়াজ আমদানিকারক ভারতীয় পিঁয়াজ রপ্তানীকারক ব্যবসায়ীদের কমিশন এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন। এসব আমদানি কারক ভারতীয় পিঁয়াজ রপ্তানীকারকদের নামে এলসি খুলছেন। তারা পিঁয়াজের চালান পাঠাচ্ছেন। বন্দর থেকে পিঁঁয়াজের চালান কাস্টমস থেকে খালাসের পর এপারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। রেট ধার্য করে দিচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এপারের আমদানিকারকগণ কেজি বা টন প্রতি কমিশন পাচ্ছেন। একাধিক সুত্র এ ব্যবসার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এবার দেশে ১৯ লাখ ১৪ হাজার টন পিঁয়াজ উত্পাদন হয়েছে। এপ্রিল মাসে নতুন পিঁয়াজ উঠেছে। তিন মাসের মধ্যে দেশি পিঁয়াজ ফুরিয়ে যাওয়ার কথা নয়। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশে উপাদিত পিঁয়াজ গেল কোথায়। অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, দেশের পিঁয়াজ উত্পাদনকারি জেলাগুলোতে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী বিপুল পরিমান পিঁয়াজ মজুত করে রেখেছে। দাম আরো চড়লে বাজারে ছাড়বে। বেনাপোল বন্দর কোয়ারেইটাইন অফিস সুত্রে জানা যায়, জুন মাসে এ বন্দর দিয়ে ২ হাজার ৩৬ টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে্। জুলাই মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ৮৯০ টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সোনা মসজিদ বন্দর দিয়ে জুলাই মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত ৮ হাজার টন পিয়াজ আমদানি হয়েছে। বৃহষস্পতিবার ৭৮ ট্রাক ও শনিবার ৭৩ ট্রাক পিঁয়াজ এ রুটে আমদানি হয়েছে। এ পিঁয়াজের প্রতি টনের আমদানি মূূল্য ২শ’ ৭৫ ডলার থেকে ৩শ’ ডলার। এ ছাড়াও সাতক্ষীরা ভোমরা বন্দর দিয়ে গত এক সপ্তাহে ৫ হাজার ৮শ’ ৮০ টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে। হিলি বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমান পিঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আমদানিকারকদের সুত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি ভারতীয় পিঁয়াজের মূল্য বাংলাদেশে আসার পর ৩০-৩১ টাকা পড়ছে। এ পিঁয়াজ ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর বন্দরে পাইকারি ৩৭- ৩৮ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী পিঁয়াজ মজুত করছে বলে জানা গেছে।