অধিকার আদায়ের লড়াকু কন্যা হিসাবে মালালা পরিচিত হতে চায়

পাকিস্তানী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই তালেবানের গুলিতে বেঁচে যাওয়া কন্যা হিসেবে নয় বরং অধিকার আদায়ে লড়াকু কন্যা হিসেবে পরিচিত হতে চায়। জাতিসংঘে বক্তৃতা দেয়ার একদিন পর ১৬ বছর বয়সী মালালা বলেছে, নারী শিক্ষার জন্য সে তার সারা জীবন উত্সর্গ করবে। জাতিসংঘে দেয়া তার বক্তৃতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মেয়েদের স্কুলে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে তার প্রচারণা বন্ধে গত অক্টোবরে এক তালেবান মালালার মাথায় গুলি করে। এরপর সে এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তৃতা করলো। নিউইয়র্কে পাকিস্তান জাতিসংঘ মিশনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মালালা বলে, ‘২০১২ সালের ৯ অক্টোবরের হামলা আমার জীবনের কেবল একটি অংশ।’ সে বলে, ‘আমি একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে চাই। আমি মেয়েদের শিক্ষার জন্য আমার সারাজীবন উত্সর্গ করতে চাই।’ মালালা বলে, ‘আমি তালেবানের গুলিতে বেঁচে যাওয়া কন্যা হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমি আমার অধিকার আদায়ে লড়াকু কন্যা হতে চাই।’ সে শান্তিতে বসবাসের অধিকার ও স্কুলে যাওয়ার অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। মালালাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তার মতে, তালেবান ও অন্যান্য চরমপন্থীরা শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। যারা মনে করে একটি মেয়ে স্কুলে গিয়ে অনেক কিছু বুঝতে শিখবে, তার ক্ষমতায়ন হবে তখন তারা ভয় পায়। তাদের মধ্যে তালেবানও রয়েছে। সে তার দেশ পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ায় সামপ্রতিক হামলার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, তারা স্কুলে হামলা চালাচ্ছে। তারা নিরপরাধ ছেলেমেয়েকে হত্যা করছে। সে বলে, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি তাহলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বিভিন্ন দরিদ্র দেশে অনেক স্কুল গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এবং আমরা দেখবো যে, প্রত্যেক নারী একজন পুরুষের মত তার অধিকার ভোগ করছেন।’