সাত হাজার চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ

রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন ডাক্তার। আর সেবা দিয়ে রোগী সুস্থ করার দায়িত্ব পালন করেন নার্স। ডাক্তারের চেয়ে নার্সের সংখ্যা বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশে এ চিত্র ঠিক বিপরীত। বর্তমানে দেশে কর্মরত ডাক্তারের তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম। এদিকে সাত হাজার চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ করে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক সংসদকে এ কথা জানান। হোসেন মকবুল শাহরিয়ারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি রেকর্ডভুক্ত রেজিস্টার্ড সরকারি ও বেসরকারি এমবিবিএস ডাক্তারের সংখ্যা ৬১ হাজার ৫১২ জন। অপরদিকে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি নার্সের সংখ্যা ২৫ হাজার। তিনি আরও জানান, দেশে প্রতি দুই হাজার ৬৫৯ জনের বিপরীতে ডাক্তার একজন। আর পাঁচ হাজার ২৩৫ জনের জন্য নার্স রয়েছেন মাত্র একজন। সারাদেশে ডেন্টাল সার্জনের সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৬৭ জন ও স্বাস্থ্য সহকারীদের মঞ্জুরীকৃত পদ ২১ হাজারের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ১৮ হাজার। শূন্য পদের সংখ্যা তিন হাজার। মন্ত্রী জানান, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাঙ্ক্ষিত অনুপাত বজায় রাখার জন্য বিসিএস এবং এডহক’র মাধ্যমে ছয় হাজার ৬৫ জন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩২তম বিবিএস-এর মাধ্যমে আরও ৬৩১ জন চিকিত্সক নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া সাত হাজার চিকিত্সক নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চাহিদা প্রদান করা হয়েছে। এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে ২৬৭টি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৯৩টি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মোছাম্মত্ ফরিদা আকতারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ৫৬ হাজার ৭৫৮ জন। এসব রোগীকে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও এন্টি অক্সিডেন্ট ওষুধ কার্ড সরবরাহ করার মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া কেরাটোসিস আক্রান্ত রোগীদের ১০ ভাগ ইউরিয়া ও ২০ ভাগ সেলিসাইলিক অ্যাসিড সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।