সুঅভ্যাসে গড়ে তুলুন শিশুকে

n সাবেরা সুলতানা

 

শিশু বয়স হলো কৌতূহল ও শেখার বয়স। এই বয়সে শিশুরা নতুন নতুন অনেক কিছু শেখে, সঙ্গে কিছু বদভ্যাসও আয়ত্ত করে। কিন্তু বাবা-মায়েদের এসব ঠাণ্ডা মাথায় সামলাতে হবে। শিশুকে অযথা বকাঝকা করা যাবে না। খুব বেশি কড়া শাসন বা নিয়মকানুনের মধ্যে রাখা যাবে না। তাহলে শিশুর কোমল মনে আঘাত লাগবে। শিশুরা অনেক সময়ই বুঝতে পারে না কার সঙ্গে কী আচরণ করবে। সামাজিকীকরণের শুরুর দিকে সবারই এমন হয়। এটাকে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝিয়ে সামলাতে হবে। কারো সামনে সন্তানকে বকা দিবেন না, তাহলে তার মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সন্তান স্কুলে বা কোথাও কোনো ভুল আচরণ বা ব্যবহার করলে সন্তানের স্কুলে যোগাযোগ করুন, সন্তানের সঙ্গে বসে কথা বলুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। ছোট বয়সে অনেকেরই কিছু বদভ্যাস থাকে, পরে যেগুলো অসুখে পরিণত হয়। তাই সঠিক সময়ে তার আচরণ বিবেচনা করে ডাক্তার দেখান। শিশুর সমালোচনা কখনো শিশুর সামনে করবেন না। শিশুকে কোনো নেগেটিভ মন্তব্য শোনাবেন না। সবসময় তার কাজের প্রশংসা করুন। তাহলে সে ভালো কাজ করবে। শিশুরা অনেক সময়ই অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজ করে মজা পায়। সেগুলোতে বাধা দিবেন না। আপনার সন্তানের যে দিকে আগ্রহ, সেদিকে কিছুটা হলেও প্রাধান্য দিন। খাওয়ার আগে হাত না ধোয়া, যেখানে সেখানে এলোমেলো করে রাথা এসব কমন বদভ্যাস। এসব প্রতিদিন সন্তানকে একটু একটু করে বোঝান। যতবার সে ভুল করবে, ততবার ধৈর্য নিয়ে তাকে সংশোধন করে দিন। আপনিও সন্তানের সামনে সংযত ও ভালো আচরণ করুন। কারণ আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকেই শিখবে।

রমজান মাসে বড়দের পাশাপাশি বাড়ির শিশুদেরকেও ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে বাবা-মাসহ বয়োজোষ্ঠদের কাছ থেকে শিশুরা ভালো কাজের অভ্যাস শিখতে পারে। তাই তাদের ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবারের সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে।

শিশুদের ভালো কাজের

অভ্যাসগুলোর মধ্যে হচ্ছে—

n প্রাণীদের প্রতি দয়ালু হওয়া

n রোজাদারদের ইফতার দেওয়া

n পুরনো খেলনা দান করা

n ঘরের কাজে সাহায্য করা

n অসুস্থ প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের সাথে দেখা করা

n কাপড় পরিস্কার করতে মাকে সহযোগিতা করা

n ভাই-বোনকে হোমওয়ার্ক করতে সহযোগিতা করা

n বন্ধুদের ঈদ কার্ড দেওয়া

n নতুন কাপড় দান করে ঈদের খুশি ছড়িয়ে দেওয়া

n প্রতিবেশীদের সাথে ইফতার শেয়ার করা

n বয়স্কদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা

n ভালো কাজের প্রশংসা করা

n ইফতারের টেবিল সাজানোয় সহযোগিতা করা

n কারো হাতে কিছু পরে গেলে তুলে দেওয়া

n ছোটদেরকে আদর করা

n আব্বু-আম্মুর কথা শোনা

n রাগ ভুলে ক্ষমা করে দেওয়া

n পরিচিত কেউ বাসায় আসলে দরজা খুলে দেওয়া

n কেউ সহযোগিতা করলে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া

n আম্মুকে সেমাই রান্নায় সহযোগিতা করা

n অসহায়কে সাহায্য করা

n রোদ-বৃষ্টিতে ছাতা শেয়ার করা

n পরিবেশ রক্ষায় ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা

n গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া

n অসুস্থ প্রাণীকে সেবা করা

n রান্না শেষে গ্যাসের চুলা বন্ধ করা

n বন্ধুর সাথে বই শেয়ার করা

n প্রয়োজন না হলে লাইট, ফ্যান বন্ধ রাখা

n পানি অপচয় না করা

n বাগান করে পরিবেশ বাঁচানো