মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহত্ ধর্মীয় উত্সব ঈদুল ফিতর। এখন সবাই ব্যস্ত ঈদের পোশাক কেনা নিয়ে। আর ঘর সামলানোর দায়িত্ব যাঁর, তিনি প্রস্তুতি নেবেন ঘরের ভেতরটা পরিপাটি করে সাজাতে। এবার ঈদে আপনার বাসাটি কিভাবে সুন্দর করে সাজাবেন, তার পরামর্শ নিয়ে জানাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম
উত্সবে ঘর সাজানোর পাশাপাশি প্রস্তুত রাখতে হয় ঘরের চারপাশ। এই চারপাশের আওতায় থাকে ড্রয়িংরুম, ডাইনিং টেবিল, বেডরুমের বিছানা-বালিশ। তবে সবার আগে প্রয়োজন ঘরকে গোছগাছ করে নেওয়া। সম্ভব হলে ড্রয়িংরুমে নতুন কুশন কাভার কিংবা হতে পারে অল্প ব্যবহূত কাভারটি দিয়ে ড্রয়িংরুম সাজিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি পর্দা পরিষ্কার করা, শোপিস, ফুলের টব, ফুলদানি, কার্পেট ইত্যাদিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর যত্নআত্তির নজরদারি ছড়িয়ে দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, ঈদ মানেই ঘরে অতিথির আগমন। আর সেই আগমনকে সুখকর করে তুলতে আপনার প্রয়োজন নিজের রুচি আর পরিবেশকে সুচারুভাবে উপস্থাপন করা। এক্ষেত্রে প্রথম পরিচয়টাই দিতে হয় ড্রয়িংরুম থেকে। ড্রয়িংরুমের সীমানা পেরোলে যেহেতু আপ্যায়ন প্রাধান্য পায় তাই ডাইনিং টেবিল, ডাইনিং ওয়াগন, শোকেস এবং অন্যান্য শোপিসের জায়গাগুলোও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে এই সময় কিন্তু অল্প কিছু কাচের জিনিস ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে। অর্থাত্ হাত থেকে পড়ে ভেঙে যেতে পারে। তাই আপনাকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শুধু নিজের জন্য নয়, বরং নিজের রুচির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে প্রয়োজন ঘরের চারপাশ গোছগাছ করে নেওয়া। পাশাপাশি সবগুলো রুমের পর্দা, কুশন কাভার, সোফার কাভার, বেডশিট এবং অন্যান্য কাপড় পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর পরিচ্ছন্ন উজ্জ্বল ও বর্ণিল কাপড়ই ঈদের দিনগুলোতে আপনার বাসায় রং ছড়াবে।
পরিচ্ছন্ন বাথরুম
আপনার বাসার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মেঝে দেখে মুগ্ধ কোনো কোনো অতিথি যদি বাথরুমে ঢুকে দেখেন সেটি অপরিচ্ছন্ন আর নোংরা অবস্থায় রয়েছে, তাহলে কিন্তু আপনার প্রেস্টিজ ক্ষুণ্ন হবেই, আপনার উজ্জ্বল ইমেজ নিমিষেই ম্লান হয়ে যাবে। আসলে একটি বাড়ির লোকজন কতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সে সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায় সে বাড়ির বাথরুম থেকে। তাই এটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সবার জন্যই জরুরি। স্বাস্থ্যগত কারণেও বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি সবার বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।
বসার ঘর
এই ঘরটি সাধারণত ঈদে মিলনমেলার ক্ষেত্র। সারাবছর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করার অবসর হয় না। তাই আমরা যেমন ঈদের ছুটিতে তাদের বাড়ি যাই তেমনি নিজের বাড়িতেও তাদের হয় অনবরত আনাগোনা। আর বসার ঘরেই বসে আড্ডা। প্রথমে ঘরের ঝুল এবং ফ্যানের ব্লেড পরিষ্কার করে নিন। দেয়াল বেশি ময়লা হলে পেইন্ট করিয়ে নিন। আর ময়লা না হলে দেয়াল পরিষ্কার করে ছবিগুলো নামিয়ে মুছে আবার টাঙিয়ে দিন। কার্পেট থাকলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন। নইলে কড়া রোদে দিয়ে ব্রাশ করে আবার বিছিয়ে দিন। আসবাব রং করানো সম্ভব না হলে একটা পাতলা কাপড় একটু কেরোসিনে ভিজিয়ে আসবাবের ওপর ঘষে নিন। দেখুন আসবাব কেমন ঝকঝকে হয়ে উঠেছে। এবার আসবাবগুলো একটু রদবদল করে সেট করুন। এত ঘরে নতুনত্ব আসবে।
দেশীয় অন্যান্য ফার্নিচার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো এই ঈদে হাতিল নিয়ে এসেছে ঘর সাজানোর যাবতীয় ফার্নিচার। ঘরের সাইজ, নিজের পছন্দ এসব মিলেই সাজিয়ে তোলা যাবে ঘর। মোট কথা, বাংলাদেশের বাজারে প্রথমবারের মতো বিশ্বমানের ফার্নিচার নিয়ে এসেছে স্বনামধন্য ফার্নিচার উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যান্ড হাতিল। হাতিলের বিভিন্ন ফার্নিচারের মধ্যে সোফা, সেন্ট্রাল টেবিল, ডিভান, টিভি ক্যাবিনেট, ওপেন সেলফ, ডাইনিং, চেয়ার, বেড, ড্রেসিং টেবিল, ওয়ারড্রব, ম্যাট্রেক্স, রিডিং টেবিল, ডোর আরো অনেক ধরনের ফার্নিচার রয়েছে। এ সকল ফার্নিচার তৈরি করা হয় অত্যাধুনিক আইওটি পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নত প্রযুক্তিতে। এসব ফার্নিচার তৈরি হয় সম্পূর্ণ রোবটিক পদ্ধতিতে। যেখানে ফার্নিচার তৈরির বেশিরভাগ কাজই হয় হাতের স্পর্শ ছাড়াই। স্বয়ংসম্পূর্ণ এই ফ্যাক্টরিতে রয়েছে সলিড উড, প্যানেল উড, ল্যাকার সেকশন, মেটাল ইউনিট, ফেব্রিক ইউনিট, বোর্ড ইউনিট, ফোম ইউনিটের মতো পারস্পরিক নির্ভরশীল সব ইউনিট। ক্রেতাদের জন্য হাতিল এই ঈদে ‘উত্সব-ছাড়’-এর বিশেষ অফার দিয়েছে। এই অফারে হাতিলের সকল শো-রুমে ৫ থেকে ১০% ছাড় ঘোষণা করেছে। এই অফার চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।