‘জামায়াত একাত্তরে বিরোধিতা করেছিলো, এখনো করছে’
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
গোলাম আযমের অধীন তার দলের সকল সদস্য ও অঙ্গসংগঠনগুলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো, ৪২ বছর পরও তারা একই ধরনের আচরণ করছে। এখনো কিছু স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর কর্ণধার হয়ে রয়ে গেছে। যে কারণে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িত তরুণরা স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতায় বেড়ে উঠছে। যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। গতকাল সোমবার জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ের পর্যবেক্ষণে এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলাম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি অপরাধমূলক সংগঠনের মতো কাজ করেছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই উপমহাদেশের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিলেন তাত্কালীন জামায়াতের আমীর মওলানা মওদুদী। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের একমাত্র ইসলামভিত্তিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদেরকে দাবি করে। আবার যখন বাঙালীরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিলো তখন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে তা রুখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দেশপ্রেমিক দল হিসেবে দাবি করতে থাকে এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের দলকে ভারতের এজেন্ট হিসেবে সম্বোধন করে। উপহাসের বিষয় হলো পাকিস্তান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে জামায়াত জঘন্য ভূমিকা পালন করেছিলো। এই দুই দেশের উত্পত্তিতে তাদের কোনো ভূমিকাই ছিলো না।
রায়ে আরো বলা হয়, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিলো এখনো স্বাধীনতার বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়েছে জাতির কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ হলো একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারের শীর্ষ নির্বাহী পদে, সামাজিক অথবা রাজনৈতিক দলের পদে স্বাধীনতা বিরোধী লোকদের থাকা উচিত নয়। আমাদের অভিমত উপরোক্ত বড় ধরনের পদে যাতে স্বাধীনতাবিরোধী লোকেরা বসতে না পারে সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ নিতে পারে। যাতে করে একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
রায়ে আরো বলা হয়, এ মামলায় দালিলিক প্রমাণে দেখা গেছে গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলাম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি অপরাধমূলক সংগঠনের মতো কাজ করেছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের এ ভূমিকা দেখা গেছে।