আপিলের সিদ্ধান্ত রায়ের কপি পাওয়ার পর

প্রসিকিউশনের প্রধান সমন্বয়কারী ও ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এমকে রহমান বলেছেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ৫টি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার একমাত্র সাজা মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য। কিন্তু বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে ৯০ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। আমৃত্যু একের পর এক এই সাজা চলবে। তিনি বলেন, এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করব কিনা সেটা রায়ের কপি প্রাপ্তির পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরীন আফরোজ বলেন, গোলাম আযমের মামলার রায়ে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এই রায়ে গণহত্যাকে জুডিশিয়াল নোটিসে নেয়া হয়েছে। এটি পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় রায় যেখানে গণহত্যাকে জুডিশিয়াল নোটিসে নেয়া হলো। দ্বিতীয়ত, সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা)। যেটির কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলাম। এই মামলার রায়ে বেসামরিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয়ত, জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী একটি ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন (সন্ত্রাসী সংগঠন) হিসেবে ১৯৭১ সালে ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামের যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকা সেটি আজও পরিবর্তন হয়নি। যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলো তারা যেন বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করতে না পারে সেটাও রায়ে বলা হয়েছে। তুরীন আফরোজ বলেন, তবে হতাশার জায়গাটি হচ্ছে আদালত গোলাম আযমকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করার পরেও শাস্তির জায়গাটিতে তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী এই দুটি বিষয় বিবেচনায় নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এই ধারায় বলা হয়েছে অপরাধের গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে সাজা দিতে হবে। কারণ এখানে বিচার হচ্ছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের। ব্যক্তিগত অবস্থানকে বিবেচনায় নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ৪২ বছর ধরে জাতি অপেক্ষা করছে একটি কাঙ্ক্ষিত রায়ের। আর যে ব্যক্তিটি এত বড় অপরাধ করেছে যার নেতৃত্বে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে যদি সাজার ক্ষেত্রে বয়সকে বিবেচনা করা হয় তাহলে ৪২ বছর আগেই এই বিচার হওয়া উচিত ছিলো। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান বলেন, এ রায়ে কোনভাবেই সন্তুষ্ট নই। যেখানে ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে সেখানে মৃত্যুদণ্ড প্রদানই স্বাভাবিক ছিলো।