ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশে
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩২
২০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। ঢাবির টিএসসিতে জমায়েত হল প্রাণোচ্ছল ৩২ জন শিক্ষার্থী। ডিউক অব এডিনবরা প্রজেক্টের ব্রোঞ্জ লেভেলের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর। সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ গাড়িতে করে কমলাপুর রেলস্টেশনে ছুটলেন। উদ্দেশ্য, রাত দশটার শ্রীমঙ্গলগামী ট্রেনে সওয়ার হওয়া। অভিযানের নেতৃত্ব ও তদারকি ভার পড়ল আমাদের প্রিয় প্রশান্ত দার কাঁধে। যাই হোক, রাতের খাবারের বন্দোবস্ত না সারতেই ট্রেন যথাসময়ে হাজির। নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়বে- শীর্ষক বহু প্রাচীন প্রবাদ ভুল প্রমাণিত হল বৈকি!
৩২ জন উঠে পড়লাম এক কামরায়। যার যার আসন নিলাম। ট্রেন ছাড়ার হুইসেলে আমরা সমস্বরে হুল্লোড় দিলাম। রাতের নীরবতা ভেঙ্গে ট্রেন চলছে ঝমঝমাঝম। দু’চারজন ঘুমানোর চেষ্টা করলেও আমাদের নিশীথ আড্ডা আর দুর্বার কল-কাকলিতে ঘুম তো পালালোই; বরং বাইরের কেউ কেউ মুগ্ধ দর্শক এবং শ্রোতা। ভোর সাড়ে চারটায় শ্রীমঙ্গল স্টেশনে পৌঁছলাম। নেমে হোটেল অভিমুখে হন্টন, অতঃপর যার যার রুম বণ্টন। চোখে-মুখে এবার রাজ্যের ক্লান্তি, ঘুম ছাড়া কথা নেই। ঘণ্টাখানেক পরেই প্রশান্ত দাদার রুমে রুমে এসে টোকা। নাস্তা সেরেই চা বাগানে যেতে হবে। অগত্যা শর্ত মোতাবেক সবাই হাঁটা ধরল, প্রায় ৫ কিমি পথ। রিকশা বা ভ্যান বা জীপে চড়া যাবে না। পথিমধ্যে চা গাছের সবুজ গালিচায় ছবি তোলার ঝড় শুরু হল। যে যেভাবে পারে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। পথচলায় পেলাম একাত্তরের শ্রীমঙ্গল বধ্যভূমি, বিডিআর টি স্টেট, বাংলাদেশ চা বোর্ডের সীমা, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, কিংবা রাবার বাগান। সকাল ১০টা অবধি চা বাগানে লাগামহীন ঘোরাঘুরি, দুটি পাতা একটি কুঁড়ি আবিষ্কার চলল প্রবল প্রতাপে। নিজেদের তখন মনে হচ্ছিল চা বাগানের মালিক। আশ-পাশের সহজ সরল মানুষদের অবাক দৃষ্টি যেন তা-ই বলছিল।