চাইল্ড পার্লামেন্ট :গল্প নয় সত্যি কথা

বন্ধুরা আজ তোমাদের এমন এক জগতে নিয়ে যাবো যেখানে তুমি খুঁজে পাবে অনেক বন্ধু। যারা তোমার মতই স্কুলে যায়। পরীক্ষায় ভাল ফল করে। আবার বড়দের সাথে সংসদেও যায়। বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই না। কারণ আব্বু যখন বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংসদ অধিবেশন দেখে তখন তোমার মন খারাপ হয়। কিন্তু জানো, ওইখানে কিন্তু তোমার মত বন্ধুরাও অংশ নেয়। সংসদকে তাদের চাওয়া পাওয়ার কথা জানায়। চাইল্ড পার্লামেন্ট; বাংলাদেশের সকল শিশুদের কেন্দ্র। শিশুরা তাদের চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না সব কিছুই এখানে উপস্থাপন করে। আমরা যদি চাইল্ড পার্লামেন্টের গল্প শুনতে চাই তবে আমাদের প্রথমেই জানতে হবে জাতীয় শিশু টাস্কফোর্স সম্পর্কে। বাংলাদেশে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের বাস্তবায়নে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করছে জাতীয় শিশু টাস্কফোর্স-এর শিশুরা। জাতীয় শিশু টাস্কফোর্সকে এর সদস্যরা আদর করে এনসিটিএফ বলে। ১২-১৮ বছরের সকল শিশু এনসিটিএফ-এর সদস্য হতে পারে। আমাদের দেশের ৬৪ জেলায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে এনসিটিএফ বন্ধুরা বসে গল্প করে। তাদের এলাকার শিশু বন্ধুদের খবরা-খবর আলোচনা করে। কোনো বন্ধুর ওপর নির্যাতন হয়েছে কিনা। কোনো বন্ধুর অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছে কিনা। প্রত্যেক মাসে এনসিটিএফ-এর পক্ষ থেকে একজন সদস্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় শিশু অধিকার ফোরাম-এর সভায় শিশু অধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এনসিটিএফ-এর শিশু অধিকার কার্যক্রম ৩টি বিভাগে সম্পন্ন হয়। তা হলো:শিশু সংসদ, শিশু সাংবাদিকতা ও শিশু গবেষণা। বন্ধুরা তোমাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে চাইল্ড পার্লামেন্ট? এইটা আবার কি? বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ১২৮ জন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে ৪০ জন। সর্বমোট ১৬৮ জন নির্বাচিত শিশু ২ বছর মেয়াদে চাইল্ড পার্লামেন্টের সদস্য থাকে। তবে যদি কারো বয়স ১৮ হয়ে যায় তবে সাথে সাথে তার সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। চাইল্ড পার্লামেন্টের সদস্যরা নিজ এলাকার নিবন্ধিত এনসিটিএফ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়। চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের সংসদ পরিচালনার জন্য তাদের বন্ধুদের মধ্য থেকে ৫ জন বন্ধুকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার প্যানেল, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচন করে। বাংলাদেশের সকল শিশুদের অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করছে এনসিটিএফ ও চাইল্ড পার্লামেন্টের বন্ধুরা। ওরা বিশ্বাস করে শিশুদের অংশগ্রহণ না থাকলে শিশু অধিকার বাস্তবায়নে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না। আর তাইতো চাইল্ড পার্লামেন্ট পরিচালনা করে বর্তমান ও সাবেক স্পিকারদের সমন্বয়ে পরিচলন দল। চাইল্ড পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার সাব্বির আহমেদ মনে করে চাইল্ড পার্লামেন্ট হলো পুরো বাংলাদেশের শিশুদের বিনে সুতোয় গাঁথা মানচিত্র। সকল এলাকা অঞ্চল বিশেষ জনগোষ্ঠীর শিশুরা পুরো বাংলাদেশকে এক মঞ্চে নিয়ে আসে চাইল্ড পার্লামেন্ট। সাব্বির-এর সহযোগী বন্ধু লোমাত সহিবা মজা করে বলে—চাইল্ড পার্লামেন্টের উদ্বোধনী পর্বে মোমবাতির আলোয় ফুটে ওঠে বাংলাদেশের মানচিত্র প্রতিকৃতিতে। এই মানচিত্র অনুসরণ করে সকল শিশুবন্ধু হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে যায়। এ যেনো একটুকরো বাংলাদেশ। সারাদেশ থেকে আগত বন্ধুদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এখানে তাদের সার্বিক সহযোগিতায় থাকে একদল যুব স্বেচ্ছাসেবক। যারা প্রত্যেকেই এক সময় এসসিটিএফ সদস্য ছিলেন। ৫ দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেয় তোমার শিশু সংসদের বন্ধুরা। ও একটা ভালো কথা, কর্মশালায় অংশগ্রহণের পূর্বে প্রত্যেক শিশু সাংসদ আসন্ন অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য বিষয়ভিত্তিক জরিপে অংশ নেয়। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে শিশু সাংবাদিক ও শিশু গবেষকগণ। সারাদেশ থেকে জরিপে উঠে আসা ফলাফল নিয়ে তৈরি হয় কর্মপত্র। এই কর্মপত্রই অধিবেশনে বিষয় বিশ্লেষণে সহায়ক হিসেবে ব্যবহূত হয়। আর পুরো বাংলাদেশের সকল শিশুর প্রতিফলন ঘটে। প্রথমদিন সবাই খুব ক্লান্ত থাকে। সন্ধ্যায় উদ্বোধনী পর্বের পরই সবাই চলে যায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিজ আসনে। মূল মজা শুরু হয় ২য় দিন থেকে। সকাল থেকে নির্ধারিত বিরতিতে চলে অধিবেশন। একটুও ক্লান্তি নেই কারো চোখে মুখে। এ যেনো এক নতুন জগত্ আবিষ্কারের জায়গা। ২য় দিন চলে আঞ্চলিক শিশুর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী তার নিজ এলাকার শিশু সমস্যার কথা তার সারাদেশের বন্ধুদের কাছে তুলে ধরে। নিজেরাই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে প্রশ্নের মান নির্ধারণ করে। যেখানে শুরু ২০০২ সালের মে মাসে শিশুদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘টাঙ্গইল জেলা শিশু পরিষদ’ জাতিসংঘ বিশেষ অধিবেশন-এর সাথে সম্পর্কিত করে একটি ছায়া অধিবেশন আয়োজন করে। আর এরই মধ্য দিয়ে জন্মলাভ করে চাইল্ড পার্লামেন্টের ধারণাটি। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী শিশুদের অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। প্রত্যাশা করা হয় যে, চাইল্ড পার্লামেন্ট শিশুদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়, মতামত ও চিন্তা-ভাবনাগুলো সকলের সামনে উপস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় ফোরাম হিসেবে কাজ করবে। শিশুরা জাতীয়ভিত্তিক শিশু সংগঠন গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে। বাংলাদেশের সকল শিশুর একই সঞ্চে অংশগ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে চাইল্ড পার্লামেন্ট গঠনের উদ্যোগ নেন শিশু বন্ধু সুলতান মাহমুদ। যার স্বপ্নের চাইল্ড পার্লামেন্ট সেই টাঙ্গাইলের নিভৃত জনপদে শিশু পরিষদ নামে জন্ম নিয়ে আজ পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চাইল্ড পার্লামেন্ট এখন বাংলাদেশের সকল শিশুর। চাইল্ড পার্লামেন্টের প্রথম স্পিকার নির্বাচন হয় জাহিদুল ইসলাম। তিনি তার কচি-কাঁচার বন্ধুদের চাইল্ড পার্লামেন্টে স্বাগত জানান। শিশুদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন জাহিদুল। তিনি জানান, চাইল্ড পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসে ২০০২ সালে। সেখান থেকে আজ ২০১৩। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি আমরা। জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় আছেন। চাইল্ড পার্লামেন্টের প্রথম মেয়ে স্পিকার নির্বাচিত হয় নার্গিস আখতার। কক্সবাজার থেকে শিশু সংসদ সদস্য হিসেবে ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে যোগ দেন, নির্বাচিত হন। পরিচালনা করেন পরবর্তী অধিবেশন। নার্গিস আখতারের ভাষায় শিশুদের একটাই পরিচয়। সে শিশু। নার্গিস আখতার বর্তমানে পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিশুদের অর্জন চাইল্ড পার্লামেন্ট বিভিন্ন সময় সমসাময়িক শিশু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে শিশু অধিকার সনদের আলোকে সহজ ভাষায় দেশের নীতি নির্ধারকদের কাছে তুলে ধরেছেন। চাইল্ড পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে শিশুদের কথা শুনতে আসেন তত্কালীন খাদ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আসেন তৃতীয় অধিবেশনে। এরপর থেকে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, প্রয়াত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া, প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক, বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনিকে চাইল্ড পার্লামেন্টের বন্ধুরা শিশুদের অধিবেশনে পেয়েছে। প্রাক্তন শিশু সংসদ সদস্য আহসান হাবিব জানায়, ২০০৮ সালের অধিবেশনে উত্থাপিত শিশু তারকা প্রশ্ন হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের অংশগ্রহণ স্থান পায়। অধিবেশনে আলোচনায় উঠে আসা সুপারিশমালাসহ চাইল্ড পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরে। তারা তাদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে তাদের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০০৯ সালে শিশু অধিকার সপ্তাহে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০১০-এ এসে শিশু বন্ধু শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলামের কাছে ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের কথা জানায় শিশু সাংসদরা। ২০১১-তে এসে ৮ম অধিবেশনে মন্ত্রীকে তার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয় তার শিশু বন্ধুরা। মন্ত্রী শিশুদের সংসদে বসেই মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ৩য় অধিবেশনে শিশুদের সংসদে উত্থাপিত হয়েছিলো এখন মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্য বই প্রদান করা হচ্ছে। ২০০৫ সালের ১৭ এপ্রিল বসে চাইল্ড পার্লামেন্টের ৪র্থ অধিবেশনে শিশু সংসদে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় কম্পিউটার শিক্ষা চালু হয়েছে। ২৮-২৯ মে ২০০৬-এ ৫ম অধিবেশনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন তত্কালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি বন্ধে আদেশ ও প্রজ্ঞাপন (প্রজ্ঞাপন ২০১০ সচিব; আদেশ মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) জারি করে। দারুণ মজা না বলো। ১৯ নভেম্বর ২০০৮-এর অধিবেশনে রাজনৈতিক স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে জোর দাবি জানানো হয়। ফলশ্রুতিতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে। চাইল্ড পার্লামেন্টের সবচেয়ে মজার অধিবেশন ছিল ডিসেম্বর ২০১১ অধিবেশন। অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী। তিনি চাইল্ড পার্লামেন্টের বন্ধুদের সবাইকে নিজের নাতি-নাতনী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চা পানের দাওয়াত দেন। এতো মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। অধিবেশন শেষ করেই শিশুবন্ধুরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আতিথেয়তা নিলো ও মজার কথা বলতে গিয়ে অর্জন হারিয়ে গেল। বন্ধুরা ভাবছো, ওই অধিবেশনে মুহতাছিম সীমান্তরা শুধু চা খেয়েছে। তা কিন্তু নয়। এই অধিবেশনে শিশু অধিকার কমিশন গঠনের দাবি করা হয়। শিশু বিল-২০১৩ শিশু বন্ধুদের এই চাওয়াটাও চলে আসছে। গত ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো শিশুদের তৈরি বিকল্প প্রতিবেদন বিষয়ক চাইল্ড পার্লামেন্টের ১১তম অধিবেশন। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি শিশুদের উত্থাপিত তারকা প্রশ্ন সীমান্তে শিশু হত্যা বন্ধে তার সরকারের জোরালো অবস্থানের কথা জানান। এই অধিবেশনেই তিনি চাইল্ড পার্লামেন্টের বন্ধুদের জাতীয় সংসদে নিমন্ত্রণ করেন। বর্তমানে শিশু সংসদের বন্ধুরা বাংলাদেশের শিশুদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বিকল্প প্রতিবেদন তৈরির প্রচেষ্টায় রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিশু অধিকার সম্পর্কিত সংবাদ/গল্পগুলো এক করে আগামী বছর নভেম্বর মাসে জেনেভায় জাতিসংঘ শিশু অধিকার পরিষদের কাছে বাংলাদেশের শিশুদের পক্ষে বিকল্প প্রতিবেদন (আমাদের গল্প) জমা দিবে এনসিটিএফ ও চাইল্ড পার্লামেন্টের বন্ধুরা। শিশুবিল ২০১৩ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনির নিমন্ত্রণে জাতীয় সংসদে শিশু সংসদের একটি প্রতিনিধিদল শিশুদের পক্ষে অংশগ্রহণ করে। শিশু প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত ও স্পিকার শিরিন শারমিনের সাথে পৃথক মত বিনিময় সভায় অংশ নেয়। গত ১৬ জুন বাংলাদেশে প্রথমবারের মত শিশুদের উপস্থিতিতে শিশু বিষয়ক বিল আনা হলো। বাংলাদেশের সকল শিশুদের পক্ষে শিশু স্পিকার সাব্বির আহমেদের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে চাইল্ড পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল সংসদ অধিবেশনে অংশ নেয়। এটাও কিন্তু ১১তম অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিফাত, আনিকাদের কথা দিয়েছিলেন। আমরা এতক্ষণ যে গল্প করলাম, এই গল্পের পেছনে কিছু মানুষ রয়েছে, যারা নিত্যদিন এনসিটিএফ ও চাইল্ড পার্লামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শিশু সংসদের বন্ধুরা স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের শিশুদের নিয়ে। তারা বিশ্বাস করে শিক্ষায় বাংলাদেশের সকল শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে আলোকিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। চাইল্ড পার্লামেন্টের সাবেক প্যানেল ডেপুটি স্পিকার সোহানুর রহমান বিশ্বাস করে চাইল্ড পার্লামেন্ট একদিন বাংলাদেশের সকল উপজেলায় শিশুদের নিয়ে কাজ করবে। তুমিও যোগ দাও এনসিটিএফ বন্ধুদের সাথে। খোঁজ নাও তোমার জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কার্যালয়ে। সেখানেই খুঁজে পাবে তোমাদের বন্ধুদের। আর একটা কথা বলি, তুমি যদি মনে করো তোমার মাঝে লুকিয়ে আছে নেতৃত্ব। তুমি ব্যক্তিগতভাবে নিবন্ধন করতে পারো এনসিটিএফ জেলা শাখায়। যে বন্ধুদের সাথে তোমার নিত্যদিন কাটে, তাদের নিয়ে গড়ে তোলো এনসিটিএফ ক্লাব। অংশগ্রহণ করো এনসিটিএফ বন্ধুদের সাথে। বাংলাদেশকে রাখো হূদয়ে। ভালোবাসো শিশুকে। দেখবে একদিন তুমিও চলে আসবে শিশুদের সংসদে। এখান থেকে জাতীয় সংসদে। খুব দূরে নয় কিন্তু তোমার অপেক্ষায়।