গল্প নয় সত্যি
শিস বাজানো নিয়ে বিতর্ক!
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২০:২৬
রাস্তার মোড়ে যেসব বখাটে ছেলে অন্যদের উত্ত্যক্ত করার জন্য শিস বাজায় তাদের প্রতি আপনার সমর্থন না থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাড়ি বাড়ি দুধ পৌঁছে দেওয়া কোনো দুধওয়ালা যদি আপনমনে তার প্রিয় গানগুলো শিস বাজিয়ে এক-আধবার গেয়ে ওঠে তাহলে সেটা কি আদৌ দোষের কিছু? এ প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে যাই হোক না কেন, এ ধরনের শিস বাজানোকে কেন্দ্র করে এবার কিন্তু রীতিমতো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে যুক্তরাজ্যের ইস্ট মিডল্যান্ডসের ছোট্ট শহর লেইসেস্টারে। সেখানে কেভিন গিফোর্ড নামের এক দুধওয়ালা যেন সকাল আটটার আগে দুধ বিলি করার সময় কোনো গান শিস দিয়ে না গান সে বিষয়ে তাকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে স্থানীয় কার্বি অ্যান্ড ওয়েস্ট ডেইরি কর্তৃপক্ষ। আর এরপর থেকেই গিফোর্ড ও তার হয়ে একাধিক মানুষের আলোচনা-সমালোচনায় সংবাদ শিরোনামের বিষয়ে পরিণত হয়েছে শিস বাজানোর এই ইস্যুটি। এর মধ্যে স্বভাবতই সবচেয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া গিফোর্ডের। তিনি বলেন, ‘শিস দিয়ে গান গাওয়া কিংবা গুনগুন করতে করতে পথচলা দুধওয়ালা ব্রিটিশ জীবনধারারই একটি অংশ। তাই ৫২ বছরের এই জীবনে শৃঙ্খলার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসার পর এখন এই মধ্য বয়সে এ ধরনের অভিযোগ দুঃখজনক ও অবান্তর। তা ছাড়া এই অভিযোগটি এমন চার-পাঁচজন মানুষের কাছ থেকে এসেছে যারা কেউই আমার গ্রাহক নন। কাজেই রোজ যে ৩৪০টি বাসায় আমি দুধ সরবরাহ করি তাদের যদি শিস দিয়ে গান করায় সমস্যা না হয় তাহলে এদের তো হওয়ার কথা নয়। আর বিষয়টা এমনও নয় যে আমি চিত্কার করে বা খুব জোরে জোর শিস বাজাচ্ছি। আমার তো মনে হয়, এর চেয়ে সকালবেলার পাখিও অনেক জোরে শব্দ করে। এখন কি শব্দদূষণের অভিযোগে তারা পাখির কিচিরমিচিরও থামিয়ে দেবেন? আর আমাকে আটটা পর্যন্ত শিস না বাজাতে বলা আর শিস বাজানো একেবারে বন্ধ করতে বলা একই সমান। কেননা আটটার মধ্যেই আমি দুধ বিলি করা শেষ করে ফেলি।’ এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যারা গিফোর্ডের কাছ থেকে দুধ নিচ্ছেন তারা জানিয়েছেন, গিফোর্ড নিপাট ভদ্রলোক এবং তিনি খুব মৃদুস্বরেই ‘গড সেভ দ্য কুইন’ বা ‘লাভ ইউ বেবি’র মতো দু-একটা গান শিস দিয়ে বাজান। কাজেই এমন একজন মানুষকে শিস দিতে নিষেধ করাটা না যতটা অপরাধ তার চেয়ে বেশি আসলে এটি ব্যক্তির আত্মসম্মানে আঘাত দেওয়া।