নবাবপুরে পক্ষকালব্যাপী পানি সংকট
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:১৪
রাজধানীর নবাবপুরে পানি সংকট কাটেনি। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে প্রতিদিন পানি সংকট লেগেই আছে। গত ১৫ দিন যাবত্ এখানে লাগাতার পানি সংকট চলছে। নবাবপুর ছাড়াও বংশাল, বনগ্রাম, নারিন্দা, ধোলাইখাল, ইসলামপুর, উত্তর মৈশুন্ডি, দক্ষিণ মৈশুন্ডি, ওয়ারীসহ আশপাশের এলাকায় পানির সমস্যা লেগে আছে।
নবাবপুর রোডের টেকেরহাট লেনের সামনে গত শনিবার রাতে পানির দাবিতে ক্ষুব্ধ মানুষ টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেছে। টানা দুই সপ্তাহের পানি সংকট মেটাতে ওয়াসার একটি গাড়ি এলে অনেকেই পানি না পেয়ে ক্ষোভে সেই গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। রাস্তায় পোড়া টায়ারের দাগ এখনো লেগে আছে। এলাকাবাসী বলছেন, রমজানে পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
টেকেরহাট লেনে পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। এ ছাড়া নবাবপুরের মহাজনপুর ও বনগ্রাম এলাকার কয়েকটি বাড়িতে ওয়াসার পানি আসছে না। এখানকার কয়েকটি পাম্পের উত্তোলনক্ষমতা অনেক কমে গেছে বলে ওয়াসা জানিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনটি এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পানি আসেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমস্যার শুরু থেকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিলেও তারা এগিয়ে আসেনি। টেকেরহাট লেনের গলির মুখে একটি টিউবওয়েল এখন এলাকার কয়েক হাজার লোকের ভরসা। সেই টিউবওয়েল থেকে পানি নিতে আসা এক মহিলা জানান, রোজা রেখে দূর থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়। সেটা চারতলায় নিয়ে উঠতে হয়। শরীরে আর কুলোয় না।
গত শনিবার রাতের প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন টেকেরহাট লেনের এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, সেই শবেবরাত থেকে পানির সংকট চলছে। কিছুতেই দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না।
এক গৃহবধূ বলেন, ‘নিজেরা গোছল করি না, পোলাপানরাও না। পানির লাইগ্যা লজ্জাশরম ছাইড়া দিয়্যা রাস্তার কল থাইক্যা পানি নিতাছি।’ তিনি আরও বলেন, এলাকায় পানির সমস্যা শুরু হওয়ায় ওয়াসার পানিবাহী গাড়ির তোড়জোড় বেড়ে গেছে। তবে ৫০০ টাকার পানির গাড়ির মূল্য রাখা হচ্ছে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা।
টেকেরহাটের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সমস্যা তৈরি হলে ওয়াসাকে জানানো হয়। কিন্তু সমাধানের কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি।
এদিকে টেকেরহাটে পানির সমস্যা হঠাত্ হয়েছে এমন মন্তব্য করে ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে বলেন, কয়েকটি পাম্পের উত্পাদনক্ষমতা কমে যাওয়ায় দুইদিন ধরে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো পকেট সমস্যা। সংকটের মূলে রয়েছে পুরান ঢাকার বেশির ভাগ বাড়িতে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকা। যখন লাইনে পানি আসে, তখন তারা পানি ধরে রাখে না। পানি সরবরাহে লাইনের কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি জানান।
ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, টেকেরহাটে পানির গাড়ি ঢোকানোই যায় না। ভ্যানে করে পানি নিতে হয়। সমস্যার সমাধানে আমরা সর্বাত্মক কাজ করছি। তিনি জানান, টেকেরহাটে পানি সরবরাহ করা হয় সুরিটোলার পাম্প থেকে। পর্যাপ্ত উত্তোলন না হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সমাধান হয়ে যাবে শিগগিরই।