শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:২৫
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবশ্যই পূর্বশর্ত
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর গণতন্ত্রের একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হলো জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিনিধিকে ক্ষমতা হস্তান্তর। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে গতানুগতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি পরিপূর্ণভাবে। জনসমর্থন ছাড়া যেমন ক্ষমতায় আসা যায় না, ঠিক তেমনি বিজয়ী প্রার্থীকে যথাযথভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়— যা অর্থনৈতিক তথা জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। আর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা না হলে দেশে সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক অরাজকতা। হরতাল প্রভৃতির মতো নানা সমস্যা। যা দেশে অর্থনীতিকে চরমভাবে বিঘ্নিত করে। তাইতো বর্তমান সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে— এটা দেশের সকল নাগরিকের প্রত্যাশা। আবার নির্বাচিত সিটি কর্পোরেশন মেয়রদের ঠিক সময়ে যথাযথভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে—এটাও সবার কাম্য।
মুক্তা সাহা
বিএড শিক্ষার্থী, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা
দেশকে সংঘাতের পথে না নিয়ে জাতীয় স্বার্থে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসুন
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত বলে আমি মনে করি। কিন্তু এ দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। একটা জিনিস লক্ষণীয় যে কোন দলের সময়সীমা যখন ফুরিয়ে আসে তখন তারা নিজেদের কর্তৃত্ব আর রাষ্ট্র ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা নিজেদের পকেট ফুলিয়ে তোলার বাজেট বাস্তবায়ন করে। দলীয় ক্যাডার দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এদেশের ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে চরম বিরোধ লক্ষণীয়। এই দুই দলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাধারণ মানুষ আজ নির্যাতিত। জনগণ আজকে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। কিন্তু দুই প্রধান দলের এরূপ সম্পর্কের কারণে এদেশে যে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে তাও আশা করা যাচ্ছে না। কিন্তু নির্বাচন কি করে হবে, নির্বাচন হওয়ার আগে দরকার তার সুষ্ঠু পরিবেশ। আজকে বিরোধীদল হরতাল দিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের পথে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার পক্ষও একগুঁয়েমি করছে। বিরোধী দল দাবি করছে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। যার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারাজ কেন। তত্ত্বাবধায়ক এলে ক্ষতি কি। আপনি বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক এলে আপনাকে জেলে যেতে হবে। আমি বলতে চাই কোন অপরাধ না করলে জেলে যেতে হবে না। জেলে যেতে হবে তাদের যারা বহুবার দুর্নীতর দায় নিয়ে আজ দেশ ছাড়া হয়েছে। তাছাড়া আপনি নিজেই ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে আপনারা ধ্বংসলীলা থেকে মুক্তি দিন। আজ জনগণ চায় তাদের অধিকার, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, আর বেঁচে থাকার অধিকার। আজ দুই দলের নেত্রীর কাছে আহ্বান থাকবে, আপনারা তো সংসদে উঠেছেন, সেখান থেকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পন্থা বের করুন। প্রধান দুই দলের নেত্রীর কাছে অনুরোধ দেশকে সংঘাতের দিকে না নিয়ে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে এগিয়ে আসুন।
জিএম সাহিদুল ইসলাম (রুবেল)
বাণিজ্য বিভাগ (দশম শ্রেণি), তোয়ারডাঙ্গা এইচএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আশাশুনি, সাতক্ষীরা।
অর্থনীতি উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর
একটি দেশকে উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে হলে তার অর্থনৈতিক ভিত অনেক মজবুত হতে হয়। আমাদের দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। আমরাও আশা করি, স্বপ্ন দেখি এ দেশকে অন্য দশটি দেশের মতো উন্নত দেশ হিসাবে দেখতে। কিন্তু উন্নত করা কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সকলে মিলে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকার নয় বিরোধী দল, সাধারণ জনগণের মতামত নিয়ে কাজ করলে ভালো হবে বলে মনে করি। একটি সরকারের যখন মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তখন দেখা যায় যে, সে সরকার পুনরায় জয়লাভের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু এটা না করে যদি সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে জনগণের উপর ছেড়ে দেয়া হয়। তাহলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় যে, ‘জনগণেই সকল ক্ষমতা উত্স’। কিন্তু কোথায় সেই জনগণের মূল্যায়ন? জনগণ শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগ করেই শেষ। তার পরে তাকে আর দরকার পড়ে না। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই জনগণ। যদি সরকার দেশের জন্য ভালো কাজ করে জনগণ পুনরায় নির্বাচিত করবে নচেত্ বর্জন করবে এটাই তো নিয়ম। কিন্তু আমরা দেখি এর উল্টো। মেয়াদ শেষ হলেও ক্ষমতায় থাকার জন্য কত হানাহানি। আর এর ফলে অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এ রকম কাজ থেকে আমাদের সরকার বা অন্য সকল দলকে বেরিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে জনগণ সকল ক্ষমতার উত্স। তাই দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত।
মো. শাকিল মাহমুদ
ইতিহাস বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ক্ষমতা হস্তান্তর ঠিকভাবে না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনো ঘটবে না
সময়োপযোগী এ ব্যাপারে চিন্তা করার এবং তা বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দিক রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক দিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া কোন দেশের উন্নয়নের কথা কল্পনাও করা যায় না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা অচল হয়ে পড়বে। যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন ক্ষমতার কোন অপব্যবহার যেমন করা যাবে না, তেমন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর গড়িমসিও করা যাবে না। ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণভাবে না হলে দিনের পর দিন হরতাল, সংঘাত, খুনোখুনি লেগেই থাকবে। আর এ স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করেও প্রাণ হারাতে হবে সাধারণ জনগণের। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের দেশের সরকার বা প্রতিনিধি নির্বাচন করে। কিন্তু কেন তারা তা করে? উত্তর একটাই—জনগণ চায় শান্তি। সংঘাত, রক্ত, অনৈতিক কাজের জন্য কোন সরকার বা প্রতিনিধি বা গণতন্ত্র প্রয়োজন হয় না। কিন্তু একটি দেশের নিরাপত্তার জন্য একজন প্রতিনিধি প্রয়োজন যা জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করে। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার বাদ দিয়ে জনগণের শান্তির কথা বিবেচনা করে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সকল দলকেই সমঝোতায় বসে আয়োজন করতে হবে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আর তবেই তো উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে পৌঁছবে।
গাউছুল আজম
বিএসসি (অনার্স), রসায়ন ৩য় বর্ষ, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ