কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙ্গন
ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৪
কুড়িগ্রামে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমে যাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তীব্র ভাঙনে গত ৪৮ ঘন্টায় তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল ভাঙনে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নে তীররক্ষা বাঁধের অর্ধ কিলোমিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
আবারো পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গা অংশ দিয়ে বন্যার পানি ঢুকে গেলে যাত্রাপুরের গোবিন্দপুর মৌজা ও পাঁচগাছির গারুহারা ও কদমতলা এলাকার দুই সহস াধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। বাঁধ ভাঙ্গার পর এলাকার মানুষ বিভিন্ন মুখী আতঙ্কের মাঝে দিনাতিপাত করছে। এদিকে উলিপুরের হাতিয়া বাঁধ ও চিলমারী বন্দর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বিজিবি বিওপি ক্যাম্পটি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম। নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ভাঙনকবলিত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে চলে শত শত একর আবাদী জমি।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, সোমবার রাতে তীব্র নদীভাঙনে ব্রহ্মপুত্র তীররক্ষা বাঁধের আধা কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে গেছে। এছাড়াও ভগবতীপুর, ফারাজিপাড়া, পিপুলবাড়ী, আরাজি পিপুলবাড়ী, মুসল্লীর চরে প্রায় শতাধিক বাড়ী নদীগর্ভে চলে গেছে। এসব এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার জানান, এই ইউনিয়নের চর রসুলপুর, ব্রহ্মত্তর, খামার ও চর রাউলিয়ায় প্রায় ৫০ বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। অনুরূপ নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া, নারায়ণপুর, উলিপুরের বেগমগঞ্জ ও সাহেবের আলগায় দেড় শতাধিক বাড়ি গত দুদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মন্ডল জানান, বন্যায় জেলার ৭ উপজেলায় ৩৫৭ হেক্টর সবজিক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বন্যা ও নদীভাঙনে সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ২৫৩ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।