রাজনীতিকদের হেয় করে কাদের ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র হচ্ছে?
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৬
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) রিপোর্টকে উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হেয় করে কাদের ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র চলছে? ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদদের ওপর দোষ চাপানো মেনে নেয়া যায় না। রাজনীতিবিদদের দোষ-ত্রুটি থাকতেই পারে। তবে কেন এ সময়ে রাজনীতিবিদদের হেয় করার চেষ্টা চলছে, তা সকলকে ভেবে দেখতে হবে। অপ্রপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ৯ জুলাই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যৌথভাবে রাজনৈতিক দল ও পুলিশ। এ রিপোর্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনীতিবিদদের আন্দোলন-সংগ্রামের নির্দেশনার মাধ্যমে দেশে স্বাধীনতা এসেছে। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদের নামোল্লেখ করে বলেন, অতীতে অনেকে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে রাতারাতি ক্ষমতা দখল করে আবার রাজনীতিবিদ হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, যারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হেয় করতে চায় তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া প্রয়োজন। তারা কতো টাকার মালিক, কিভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন, কালো টাকা সাদা করেছেন কিনা সে সব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে।
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল দাবি আবারো নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমাকে (শেখ হাসিনা) গ্রেফতারের উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া। অবশ্য তিন মাসের ওই সরকার দুই বছর থেকেও গিয়েছিল। সে সময় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও তাদের ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যসহ কাউকে অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই দেয়া হয়নি। ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হন। আগামীতে যাতে দেশে এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয় সেটা আমরা চাই। এ জন্য আমরা সংবিধান সংশোধন করে বিশ্বের সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে যেভাবে নির্বাচন হয় সেই ধারা ফিরিয়ে এনেছি। কখনো না কখনো এ ধারা শুরু করা উচিত ছিল। আগামী নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে সে-ই ক্ষমতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক ধারায় অনুষ্ঠিত হবে।
ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সফলতার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই দেশের সকল সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে। তবে চাহিদার তো কোন শেষ নেই। আকাশ ছোঁয়া চাহিদা থাকে। তবে আমরা চাহিদার কতটুকু পূরণ করেছি তা একবার ভেবে দেখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে অন্যায় দেখেছি, প্রতিবাদ করেছি। অন্যায়ের সঙ্গে দলের কেউ যুক্ত থাকলেও ছাড় দেয়া হয়নি। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।