আজও শাহবাগে অবস্থান গণজাগরণ মঞ্চের
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৭
গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের বাধার মুখে শাহবাগ অবরোধ করতে পারেনি গণজাগরণ মঞ্চ। ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায় প্রত্যাখ্যান ও জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে রাজধানীতে মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে মঞ্চ।
গতকাল দুপুরে গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, বুধবার জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রায় দিবে ট্রাইব্যুনাল। তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি আমরা। এ যেন জনগণের আশানুরূপ হয়, এ জন্য আমরা আগামীকাল (আজ) পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান চালিয়ে যাব। এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক এবং কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শাহবাগে এসে জড়ো হন। গোলাম আযমসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তারা স্লোগান দেন। শাহবাগ মোড়ে তারা অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে বাক্য বিনিময়শেষে মঞ্চের নেতাকর্মীরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ‘প্রহসনের রায়, মানি না’; ‘আঁতাতের রায়, মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগানে তারা মাতিয়ে রাখেন ঐ চত্বর। দুপুর সোয়া ২টার পর আন্দোলনরতরা অবস্থানস্থল থেকে সরে যান। তারা জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, শাহবাগের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করেন। সন্ধ্যার পর তারা আবারো জাতীয় জাদুঘর সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া ট্রাইব্যুনালের রায় পুনর্বিবেচনা করে ফাঁসির রায় দাবি জানান। একইসাথে তারা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায়ের জন্য স্লোগান দেন।
গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীদের কেন শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দেয়া হলো এমন প্রশ্নে জবাবে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। যান চলাচলে যেন বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য তাদেরকে শাহবাগে অবস্থান না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ থানার একজন উপপরিদর্শক বলেন, ‘ওপরের নির্দেশে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে’। আজ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের শাহবাগে আসতে পুলিশ বাধা দিয়েছে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইমরান এইচ সরকার বলেন, পুলিশের ছত্রছায়ায় আমাদের আন্দোলন চলছিল বলে অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ বাধা দেয়ার পরও আন্দোলন চলছে এবং চলবে। যত বাধাই আসুক, সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারো গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করার আহবান জানিয়েছেন তিনি। কাউকে গণজাগরণ মঞ্চে আসতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বাধা দিচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বাধা দেয়নি, তবে আসতে নিষেধ করেছে।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, গোলাম আযমের রায় নিয়ে সরকারের সন্তুষ্টি আমাদের হতাশ করেছে। সারাদেশের মানুষ যেখানে এই রায়ে অসন্তুষ্ট সেখানে সরকারের এমন সন্তুষ্টি আমাদের ব্যথিত করেছে। আদালতের এই রায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিই তার যোগ্য সাজা। তাই এই রায়ে দেশবাসী ক্ষুব্ধ।
এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ প্রসঙ্গে রমনা জোনের এডিসি রেজাউল করিম বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চট্টগ্রামে আজ বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম অফিস জানান, একাত্তরে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের কারাদণ্ডের আদেশ প্রত্যাখ্যান ও তার ফাঁসি দাবি এবং বিচারাধীন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চ আজ বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে জামাল খান চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এদিকে একই দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ আহূত দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে জামাল খান প্রজন্ম চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী শরিফ চৌহান জানান, মিছিল এনায়েতবাজার, নিউমার্কেটসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
বগুড়া গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল
বগুড়া অফিস জানান, রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযমের ফাঁসির রায় প্রত্যাখান করে ডাকা হরতালের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বগুড়া গণজাগরণ মঞ্চ। হরতাল চলাকালে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধের এই রায় হাস্যকর এবং জনপ্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা। মূল হোতাকে বেঁচে রেখে এই সাজার কোন অর্থ নেই। তার অপরাধের যা প্রাপ্য সেই মৃত্যুদণ্ড প্রদান না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ দেশবাসী তাই এই রায় মেনে নিতে পারেনি।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের সাতমাথা প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চ হরতালের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করে। বগুড়া গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী মাছুদার রহমান হেলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাহফুজুল হক দুলু, জিন্নাতুল ইসলাম, সালেহা সুলতানা, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু, অ্যাডভোকেট দুলাল কুন্ডু, আমিনুল ফরিদ, কৃষ্ণ কমল, আবদুল খালেক, শাহনেওয়াজ কবির খান পাপ্পু, জে এম রউফ, ওবায়দুল হক, কিবরিয়া হোসেন, শীতল সাহা, শাওন পাল. নওশীন মোস্তারী সাথী প্রমুখ।
সিলেটে মিছিল
সিলেট অফিস জানায়, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রত্যাখ্যান করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চ। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রজন্ম চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলে অংশগ্রহণ করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী, সংস্কৃতি কর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।