পিকেটিং থেকে বাঁচতে মা’র হাত ধরা শিশুকে চাপা দিল বাস!
মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৭
মায়ের সাথে বড় বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল ৮ বছরের শিশু নাদিরা সুলতানা। কিন্তু হরতাল তাকে আর জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে দিল না। পিকেটারদের ভাংচুর ও অগ্নি-সংযোগের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে এক বেপরোয়া ড্রাইভার তার বাস চালিয়ে দেন মায়ের হাত ধরা নাদিরার উপর দিয়ে। লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো নিষ্পাপ শিশুটিকে।
গতকাল দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে গাজীপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নাওজোড় পুলিশ ফাঁড়ির সামনে শিশুকন্যার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছিলেন নাদিরার মা নুরুন্নাহার বেগম। তিনি জানান, সোমবার বড় মেয়ে ডলিকে দেখতে তিনি নাদিরাকে নিয়ে টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় বেড়াতে যান। গতকাল বাড়ি ফেরার পথে দুপুর দেড়টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় জৈনা বাজারগামী বাসের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় একদল পিকেটার ঝটিকা বেগে কোত্থেকে যেন হাজির হয়ে এলোপাতাড়িভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গোল চত্তরের উত্তর পাশের বাসগুলো ভাংচুর ও আগুন লাগাতে শুরু করে। আতংকে যাত্রী ও পথচারীরা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। ভাংচুর ও আগুন থেকে বাঁচতে চালকরা তাদের বাস নিয়ে হুড়োহুড়ি করে পালানোর চেষ্টা করে। তিনি হঠাত্ দেখেন একটি বাস তাদের দিকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসছে। চোখের পলকে বাসটি নাদিরার উপর দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়! চোখের সামনে মুহুর্তেই সব শেষ!
শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকার একটি কেজি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী নাদিরা। সে নেত্রকোনার পূর্বধলার বিশকাকুলি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। পিতা সাইদুল ইসলাম ভালুকায় চাকুরি করেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা জৈনা বাজারে ভাড়া থাকেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, হরতাল সমর্থকরা হঠাত্ এসে গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ গিয়ে সোহেল রানা নামে শিবির কর্মীকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। সোহেল দাবি করেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনার পর পুলিশ তাকে আটক করেছে।