ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে হরতাল পালিত

জামায়াতে ইসলামী ও শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের ডাকে পাল্টাপাল্টি দাবিতে গতকালের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল রাজধানীতে পালিত হয়েছে ঢিলেঢালাভাবে। রাজধানীর বিভিন্নস্থানে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির কর্মীদের পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শ্যামলীতে জামায়াত সমর্থকরা একটি পিকআপ ভ্যান জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুলিশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ৯টি ককটেল উদ্ধার করেছে। বিকালে পান্থপথে দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূরের গাড়ি ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। তবে হরতালের সমর্থনে গণজাগরণ মঞ্চের রাজধানীর শাহবাগ মোড় ছাড়া অন্য কোথাও কোন কার্যক্রম চালানো হয়নি। সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ডেমরার রাণীমহল সিনেমা হলের সামনে জামায়াত-শিবির কর্মীরা একটি লেগুনায় আগুন দেয়। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে শিবির কর্মীরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা ব্রীজের সামনে জামায়াত-শিবিরের ১৫-২০ নেতাকর্মী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে মিছিলকারীরা পরপর ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। সোয়া ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় শিবির মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল ৭টায় দনিয়া একে উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পান্থপথে গাড়ি ভাংচুর : বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর পান্থপথ এবং ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এর মধ্যে দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূরের গাড়িও ছিল। শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে শাহীন রেজা নূর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় অন্যতম সাক্ষী। শাহীন রেজা নূর বলেন, তিনি গাড়িতে করে মোহাম্মদপুরের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের কাছে একটি গলির ভিতর থেকে কয়েকজন জামায়াত-শিবিরের সমর্থক এসে তার গাড়িতে হামলা চালায়। তারা গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষা করেন। ঐ সময় স্কয়ার হাসপাতালের পাশে ঢাকা ট্রিবিউনের গাড়িও ভাংচুর করা হয় বলে ইংরেজি দৈনিকটির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, হঠাত্ কয়েকজন যুবক লাঠি-সোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর শুরু করে। ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয়ের নিচে রাখা চারটি আটো-রিকশা ও দুইটি প্রাইভেটকার ভাংচুর করে। ঐ সময় তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময়ে ২৭ নম্বর সড়কেও কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। সকাল ৮টায় শ্যামলীতে একটি পিক-আপ ভ্যানে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় তারা দুইটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। সকাল ৭টার দিকে মিরপুরের আল-হেলাল হাসপাতালের বিপরীত দিকে হরতালের সমর্থনে শিবির কর্মীরা মিছিল বের করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় একজন শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। হরতালের সমর্থনে মিরপুর এলাকায় আর কোথাও মিছিল কিংবা অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই এ এলাকায় যানবাহন চলাচল ও জীবনযাত্রা ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।