আবিষ্কারের সুফল পেতে হলে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ জরুরি

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

আবিষ্কারের সুফল পেতে হলে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করা জরুরি। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এটি একটি আবশ্যিক বিষয়। আই ল্যাবে সকল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা উচিত। এটুআই-এর উদ্যোগে সম্প্রতি এটুআই-ইনোভেশন ল্যাব-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশীয় উদ্ভাবনসমূহ নিয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আই ল্যাব অডিটোরিয়ামে একটি মতবিনিময় সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ সব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইটিইএক্স-২০১৯ সম্মাননা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রজেক্টের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করা।  মতবিনিময় সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি  প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ?মেদ পলক। প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ এবং সঞ্চালনা করেন এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত হিউম্যান রিসোর্স প্ল্যানিং চিন্তাধারার ইনোভেটিভ প্রজেক্টগুলোকে পাইলটিং করার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা।’ মন্ত্রী আই ল্যাবকে নতুনভাবে আই ওপেনার ল্যাব বলে আখ্যায়িত করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ?মেদ পলক বলেন, ‘তরুণদের উত্সাহিত করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমস্যার সমাধান, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে আমাদের উচিত শিল্প উদ্যোক্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের উদ্ভাবনের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করা। আর এই সমন্বয় সাধনের সঙ্গে সৃষ্টিশীলতা ও যৌথ বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ আগামী ২০ বছরের মধ্যে একটি উদ্ভাবনী জাতিতে পরিণত হবে।’

এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘আমাদের উদ্ভাবনী পণ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক পণ্যের একটা যোগসূত্র তৈরি করতে হবে এবং এর জন্য সরকারের সবগুলো সুযোগকে এক সুঁতোয় বাঁধতে হবে।’

সম্প্রতি বৃহত্তর এশিয়ার প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতা আইটিইএক্স (ওঞঊঢ) ২০১৯ এ গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারো এটুআই-এর আই ল্যাব বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ বছর আই ল্যাব-এর গ্রামীণ ই-কমার্স উদ্যোগ ‘একশপ’ স্বর্ণ পদক এবং অন্য ৪টি উদ্যোগ সিলভার পদক (পাম্পিং ওয়াটার ফ্রম ডাউনহিল সোর্স টু আপহিল, ইউজড কুকিং ওয়েল, স্মার্ট হোয়াইট ক্যান এবং পিএনপিকে) অর্জন করে। গ্রামীণ ই-কমার্স উদ্যোগ ‘একশপ’ শুধু স্বর্ণ পদকই নয়, ২১টি দেশের মধ্যে সেরা আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ট্রফিও অর্জন করেছে। এবারের আয়োজনে ২১টি দেশের ১,৩২৭টি উদ্ভাবন উপস্থাপিত হয়েছিল। আইটিইএক্স ২০১৮ তেও এটুআই-এর আই ল্যাব অংশগ্রহণ করে এবং দুইটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য পদক অর্জন করে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি-এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই-এর ইনোভেশন ল্যাব (আই ল্যাব) গত তিনবছর ধরে বাংলাদেশে তারুণ্য নির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগের একটি সূতিকাগার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এটুআই-এর আইডিয়া ব্যাংক বা সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড (এস আই এফ) এর মাধ্যমে বিগত তিন বছরে ১৪,০০০ এরও বেশি উদ্ভাবনী আবেদন পর্যালোচনা, ২,০০০ এরও বেশি আবেদন নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা ও ২১৭টি উদ্যোগকে বাস্তবায়ন উপযোগী করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

ইনোভেশন ল্যাব একটি সমন্বিত মডেল নিয়ে কাজ করছে, এতে যুক্ত হয়েছে ১৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও বাণিজ্যিক চিন্তাবিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেন্টর প্যানেল। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট, পেটেন্ট ও কপিরাইট-এর কারণে ইনোভেশন ল্যাব একটি আলাদা রূপ লাভ করেছে (সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বোধনকৃত ডিজিটাল কপিরাইট প্ল্যাটফর্ম এটুআই ইনোভেশন ফান্ড-এর অর্থায়ন ও আই ল্যাবের প্রত্যক্ষ কারিগরি সহায়তাতেই শুরু হয়েছে)।