দেশ পরিচালনা ও সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৩
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়াছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ৭০টি পর্যবেক্ষণাধীন স্থানের মধ্যে ৩০টি নদ-নদীর পানি বাড়িয়াছে। কমিয়াছে ৩৯টি পয়েন্টে। সবচাইতে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের বিষয় হইল, এখন কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরসহ যেসব এলাকায় বন্যার পানি নামিতে শুরু করিয়াছে সেখানে দেখা দিয়াছে ব্যাপক নদীভাঙ্গন। ইহার ফলে হুমকির মুখে পড়িয়াছে মানুষের বসতভিটা, জমিজমা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ইহাতে সাধারণ মানষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাইয়াছে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশাসন জিও ব্যাগ ডাম্পিং করিয়া ভাঙন ঠেকাইতে প্রচেষ্টা চালাইয়া যাইতেছে বটে, কিন্তু ইহার পরিমাণ যথেষ্ট নহে।
নদীভাঙন আমাদের সাংবাত্সরিক সমস্যা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এই সমস্যা মোকাবিলায় স্বনির্ভরশীল নহে। তাহারা সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারেরই মুখাপেক্ষী। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের মহাপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সেই রকম কোন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হইতেছে না আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে। বাংলাদেশে শুধু নদীভাঙন নহে, ইহার চাইতেও বড় বড় সমস্যা রহিয়াছে। ব্যক্তি হইতে শুরু করিয়া জাতীয় পর্যায়ের সে সকল সমস্যায় আমরা ক্রমশই জর্জরিত হইয়া পড়িতেছি। ইহাতে বাড়িয়া চলিয়াছে বহুমাত্রিক দুর্ভোগ ও যন্ত্রণা। অবশ্য নানাবিধ সমস্যা বিশ্বের উন্নত দেশসহ বিভিন্ন দেশেও থাকে। কিন্তু তাহাদের সহিত আমাদের পার্থক্য হইল এই যে, সে সকল দেশের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই সমস্যাগুলি লইয়া নির্বিকার থাকেন না। সমাধানের চেষ্টা করিয়া যান অব্যাহতভাবে। আর আমাদের এখানে সবকিছু দেখিয়া-শুনিয়া মনে হয়, এই দেশটাকে যেন কেহ ম্যানেজ বা পরিচালনা করিতেছেন না। সংকট সমাধানের চেষ্টা অনেক সময় পরিলক্ষিত হয় না।
সম্প্রতি ভারতে ডলারের বিপরীতে রুপির মান রাতারাতি ব্যাপক হ্রাস পায়। ইহাতে সেই দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইহার অভিঘাতে দ্রব্যমূল্য আকস্মিকভাবে বাড়িয়া যাইতে শুরু করে এবং এই ঘটনা জনমনে দুশ্চিন্তা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় কংগ্রেস সরকার তাত্ক্ষণিকভাবে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যাহার ফলে একদিনের মধ্যেই রুপির মান বৃদ্ধি পাইয়া আগের চাইতেও সুবিধাজনক স্থানে চলিয়া যায়। ইহাকেই বলে ম্যানেজমেন্ট। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গুড ম্যানেজার বা ভাল ব্যবস্থাপকের কোন বিকল্প নাই। সবচাইতে বড় কথা হইল, ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়া আখেরে কেহই পরিত্রাণ পাইতে পারে না।
বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা হইয়াছে সেই প্রবাদবাক্যের ন্যায়- তাহা হইল, ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা’। তৃতীয় বিশ্বের যে কোন দেশে রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাহাড়সম সমস্যা থাকেই। তাহা হইতে উত্তরণের জন্য সর্বাগ্রে খেয়াল রাখা দরকার যাহাতে গণতন্ত্র ব্যাহত এবং এক মুহূর্তের জন্যও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছাইতে হইলে একটি দক্ষ ও গতিশীল প্রশাসনের পাশাপাশি আইনের শাসন এবং সর্বক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। তবেই আমাদের হতাশা, হাহাকার ও দুঃখ-যন্ত্রণাগুলি একদিন বিদূরিত হইতে পারে।