হালদাভ্যালী চা বাগানে লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল
নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৮
হালদাভ্যালী চা বাগানের গাছে গাছে দুলছে লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। এ বছর বেশ ভাল ফলন হয়েছে দুর্লভ ও সুস্বাদু ড্রাগন ফলের। চা উত্পাদনে রেকর্ড সৃস্টির পাশাপাশি দেশের মাটিতে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষেও সফলতা অর্জন করে। রামগড়ের পার্শ্ববর্তী উত্তর ফটিকছড়ির প্রত্যন্ত এলাকার এ চা বাগানটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
হালদাভ্যালী চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নাদের খান সম্পূর্ণ শখের বশে এ বিদেশি ফলের চাষের উদ্যোগ নেন। ২০০৪ সালে থাইল্যান্ড সফরকালে তিনি ড্রাগন ফলের ৮০০ চারা গাছ সংগ্রহ করে আনেন। হালদাভ্যালী চা বাগানের অনাবাদি জায়গায় চারাগুলো রোপণ করা হয়। গাছ লাগানোর ৩-৪ বছর পরই ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। প্রথমদিকে ফলন কম হলেও এখন প্রতি বছরই উত্পাদন বাড়ছে। কাটিং পদ্ধতিতে চারা উত্পাদন করে বাগান সম্প্রসারণ করা হচ্ছে প্রতি বছর। বর্তমানে প্রায় ১২০০ ফলবান গাছ আছে। এবার গাছের প্রতিটি ডালে ৫০-৬০টি ফল ধরেছে। পাকা ফলগুলোর প্রতিটির ওজন ৪০০-৫০০ গ্রাম। ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বছর প্রায় দুই-আড়াইশ’ কেজি ফল উত্পাদন হয়। এবার সাড়ে তিনশ’ কেজির মত ফলন হয়েছে।
তিনি জানান, এপ্রিল, মে মাসে গাছে ফুল আসে। ২০-২৫ দিনে ফুলটি ফলে পরিণত হয়। ড্রাগন ফুল ফোটে গভীর রাতে। অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মত। অক্টোবর- নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা ও ফল ধরা প্রক্রিয়া চলে। এ দেশের মাটি ও আবহাওয়া বিদেশি ফল ড্রাগন চাষের জন্য যে উপযোগী তা প্রমাণ করেছে হালদাভ্যালী চা বাগান।