বান্দরবানে ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক স্কুলে পাঠদান
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৬
বান্দরবানে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোমলমতি শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিন পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ছয় হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্লাস করছে। রোয়াংছড়ির পাগলাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেঘলা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এরকম ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কার্যক্রম চলছে। বহু বিদ্যালয়ের ছাদের বিম থেকে ইটের কংক্রিট এবং সিমেন্টের আস্তর খসে খসে পড়ছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সূত্র জানায়, জেলায় ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় অথবা মাঠে বা গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। রোয়াংছড়ির পাগলাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক বিদ্যালয়ে বাঁশ ও সেগুন গাছের গুঁড়ি দিয়ে ভবন ধস রক্ষার চেষ্টা চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। মেঘলা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ক্যাচিংঘাটা রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’টি বন্ধ করে দেয়ায় কয়েকশ’ শিক্ষার্থী লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- পাগলাছড়, মেঘলা কমিউনিটি, ক্যাচিংঘাটা রেজিস্ট্রার, থোয়াইঙ্গ্যা পাড়া, রাজবাড়ী, ত্রিডেবাপাড়া, বড় ফারাংগা খৃজ্জানুনা, কলারঝিরি মংপ্রুপাড়া, চিংকুমপাড়া, আকিরামপাড়া, চাম্বি, ২নং চাম্বি, সাবেক বিলছড়ি, লাইনঝিরি, দরদরী পাড়া, দরদরী, সাপের ঘাটা, চিন্তাবর পাড়া, নুনারঝিরি, পাহাড়িকা ও বটতলী পাড়া রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাগলাছড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভাপতি নির্মল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, এলজিইডি বিভাগের অর্থায়নে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাগলাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে বিদ্যালয়টি কয়েক বছরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
আকিরাম পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক যতিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ভবন ঠিকিয়ে রাখা যাবে না। ভবন ধস আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে বলা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন চিহ্নিত করে সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে অন্যত্র ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করতে। যেমন রোয়াংছড়ির পাগলা বিদ্যালয়ে হচ্ছে।