খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ৮ রমজান। এখন প্রতি মুহূর্তে দরবারে ইলাহীতে নিজকে সমার্পণ করা কর্তব্য। অধিক ইবাদত বন্দেগী ও তওবার মাধ্যমে কৃতঅপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে চোখের পানি ফেলে তওবার মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে অহর্নিশ। কারণ রমজান মাসের প্রত্যেক দিন ও রাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অগণিত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। সাথে সাথে দান সাদকাও করতে হবে প্রচুর। কেননা সাদকার মাধ্যমে বান্দার প্রতি আল্লাহর ক্রোধ প্রশমিত হয়। আর তাছাড়া যাকাত প্রদানের উত্কৃষ্ট সময় হলো এই রমজান মাস। কেননা এ সময়ে প্রতিটি আমলের সওয়াব আল্লাহ তা‘য়ালা ৭০ গুণ বৃদ্ধি করে দেন। যাকাত শব্দটি আরবী, এর আভিধানিক অর্থ-পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। যাকাত দানের মাধ্যমে একদিকে যেমন-সম্পদ পবিত্র বা হালাল হয় তেমনি যাকাত দিলে কারো সম্পদ কমে যায় না বরং আল্লাহ বৃদ্ধি করে দেন। যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ এবং নামাজের পরেই এর স্থান। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও। আর নিজেদের জন্য যে ভালো কাজ আগে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর কাছেই পাবে। তোমরা যা কিছু করো, নিশ্চয় আল্লাহ তা দেখেন (সূরা বাকারা-১১০ আয়াত)। সত্কর্ম শুধু এই নয় যে, (নামাজে) পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে, বরং সত্কাজ হলো, ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কেয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সমস্ত নবী-রসূলদের ওপর। আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে-আত্মীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য। আর যারা নামাজ কায়েম করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা পূর্ণকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও সংগ্রামের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী, তারাই হলো সত্যবাদী ও মুত্তাকী (সূরা বাকারা-১১৭ আয়াত)। নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন ও সত্কাজ করেছে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে তাদের পালনকর্তার কাছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না (সূরা বাকারা-২৭৭ আয়াত)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অথচ সে তার যাকাত আদায় করে না কেয়ামতের দিন তার ঐ সম্পদ একটি ভয়াবহ বিষধর সাপেররূপ ধারণ করবে, যার মাথায় থাকবে দু’টি কালো বর্ণের ফোটা (কালো ফোটা হলো ভয়াবহ বিষধর সাপের চিহ্ন)। উক্ত সাপ তার গলদেশে হাসলীর মত জড়িয়ে দেয়া হবে। তারপর সাপ উক্ত ব্যক্তির দু’চোয়াল কামড়িয়ে ধরে বলতে থা্কবে, আমি তোমার পুঞ্জিভূত সম্পদ! আমি তোমার পুঞ্জিভূত সম্পদ!! অতঃপর রসূল (স.) কুরআনের নিম্নলিখিত আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ‘‘আল্লাহ যাদেরকে সম্পদ দান করেছেন, তা তাদের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং তা চরম ক্ষতির কারণ হবে” (বুখারী)। হযরত আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কোনো পরিবারের লোকেরা যখন রসূলুল্লাহ (স.)-এর নিকট তাদের যাকাত নিয়ে আসতো তখন তিনি বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ তুমি অমুক পরিবারের প্রতি রহমত বর্ষণ করো।” আবদুল্লাহ (রা.) বললেন ঃ একদা আমার পিতা তাঁর নিকট যাকাত নিয়ে এলেন, তখন রসূলুল্লাহ (স.) বললেনঃ হে আল্লাহ, তুমি আবু আওফার পরিবারের প্রতি দয়া করো (বুখারী, মুসলিম)। সুতরাং, এবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল রিজিক গ্রহণ করা। আর যাদের ওপরে যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি তাদের সম্পদের যাকাত প্রদান না করে এই রমজানে নামাজ, রোজা ও অন্যান্য এবাদত বন্দেগী করেন তাহলেও তা কবুলের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। সে কারণে যাদের নিছাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তারা এই পবিত্র বরকতপূর্ণ মাসে তাদের সম্পদের যাকাত প্রদান করে আল্লাহর অবারিত মাগফিরাত বা ক্ষমার দিকে এগিয়ে আসবেন। আল্লাহ সকল ধনবানদের সেই তাওফিক দান করুন, আমীন। ই-মেইল ঃ mzhazadi@yahoo.com