খুলনায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৫
খুলনায় আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগসহ এর প্রত্যেকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম চলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে।
ক্ষমতায় আসার পর নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করতে আওয়ামী লীগের মহানগর ও জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অধিকাংশ নেতাকর্মীর দূরত্ব তৈরি হয়। যার প্রভাব পড়ে গত ইউনিয়ন পরিষদ ও সমপ্রতি অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।
সূত্র মতে, খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। মহানগর ও জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ছয় বছর আগে। একই সাথে মেয়াদ শেষ হয়েছে থানা কমিটিগুলোরও। যদিও মহানগর কমিটির সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে জেলা কমিটির সম্মেলন নিয়ে ঘোর অন্ধকারে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি মহানগর এবং পরের দিন ১৬ জানুয়ারি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে তালুকদার আব্দুল খালেককে সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর কমিটি এবং শেখ হারুনুর রশিদকে সভাপতি ও এস এম মোস্তাফা রশিদী সুজাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি উভয় কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও আর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগর ও জেলা যুবলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। খুলনা জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালের ২৫ মে। সম্মেলনে কামরুজ্জামান জামালকে সভাপতি ও আক্তারুজ্জামান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। এছাড়া মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি। ৫১ সদস্যের এই কমিটির আহবায়ক মনোনীত হন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু ও যুগ্ম-আহবায়ক মনোনীত হন এস এম মনিরুজ্জামান সাগর ও হাফেজ মো. শামিম। তিন মাসের মধ্যে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গত পাঁচ বছরেও কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে দীর্ঘ ৭ বছর আগে জেলা যুবলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও আজো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। বর্তমানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই ঢিমেতালে চলছে জেলা যুবলীগের কার্যক্রম।
খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সর্বশেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের ২ অক্টোবর। ইতিমধ্যে এই কমিটি তার মেয়াদ উত্তীর্ণ করেছে। তবে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহ জামালের দাবি তাদের কমিটির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলে গত বছরের ১০ জানুয়ারি কেন্দ থেকে এক বছর মেয়াদের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। ইতিমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
দীর্ঘ ছয় বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। ৪৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে বর্তমানে ২৫ জনই নিষ্ক্রিয়। এছাড়া জেলা কমিটিতে নতুন সদস্য অর্ন্তভুক্ত ও পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করা হয়েছে। এ কর্মকাণ্ডকে অসাংগঠনিক বলে দাবি করেছেন সংগঠনের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তবে মহানগর ও জেলা শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতাদের দাবি তারা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। কেন্দ থেকে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১০ বছরেও সম্মেলন করতে পারেনি খুলনা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটি। এই দীর্ঘ সময় ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই সংগঠনের কর্মকাণ্ড। অপরদিকে তিন বছর মেয়াদের মহানগর কমিটি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ৭১ সদস্যের স্থলে মাত্র ৩ সদস্য দিয়ে চলছে। এদিকে, খুলনা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থাকলেও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। ইতিমধ্যে মহানগর ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান দলের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই দাবি করে বলেন, সম্মেলনের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগ যে কোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক কথা নয়। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা পরাজিত হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করে আবারো সরকার গঠন করবে।