দিনাজপুরে অবৈধ ও নিম্নমানের ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে

একশ্রেণির চিকিত্সক ও ওষুধ ব্যবসায়ীর কারণে জেলায় অবৈধ ও নিম্নমানের ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এসব ওষুধের নেই কোনো ওষুধ প্রশাসনের রেজিস্ট্রেশন। প্রতারক চক্র এসব ওষুধ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উল্লেখ্য, ৩ মাস আগে মোবাইল কোর্ট দিনাজপুর শহরে ৩টি ভুয়া ওষুধ কারখানা তল্লাশি করে। এ সময় তারা বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও রেজিস্ট্রিবিহীন ওষুধ উদ্ধার করে কারখানাগুলো সিলগালা করে দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার বেশকিছু ফার্মেসি, ক্লিনিক এবং বেসরকারি হাসপাতালে ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন রেজিস্ট্রেশন (ডিএআর) নম্বর ছাড়া ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে ফুড সাপ্লিমেন্ট, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট প্রভৃতি। এছাড়া একশ্রেণির চিকিত্সক এসব ওষুধ ব্যবহার করতে রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ অঞ্চলে ওষুধের দোকান, ক্লিনিক এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডিএআর নম্বর ছাড়া প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি নিউট্রেশন সাপ্লিমেন্ট বিক্রি হয়। এগুলোর সুদৃশ্য মোড়কে লেখা আছে ‘মেড ইন চায়না’ বা ‘মেড ইন ইউএসএ’। এছাড়া দিনাজপুর শহরেও অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশন নেই এমন ওষুধ তৈরির কারখানা রয়েছে। শহরের ঘাসিপাড়া, ৮ নং উপশহর, তুঁত বাগান এবং বড়বন্দরে এসব কারখানার অবস্থান রয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট এন্ড কেমিস্ট সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ওষুধ প্রশাসনের রেজিস্ট্রেশন নেই এমন ওষুধ বৃহত্তর দিনাজপুরের কোন কোন ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২৩ মার্চ সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কোনো ফার্মেসির কাছে এ ধরনের ওষুধ থেকে থাকলে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছিল। এরপরও কোন কোন ওষুধের দোকানে এ ধরনের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছি। দিনাজপুরের ড্রাগ সুপার আবদুল মালেক বলেন, আমরা শুনেছি ডিএআর নম্বর ছাড়া ওষুধ জেলায় বিক্রি হচ্ছে। এ ধরনের কোনো ওষুধ আমরা বাজারজাত করার অনুমোদন দেইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিব। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, এগুলো কোনো ওষুধ নয়। কিছু লোভী ডাক্তার ও পল্লী চিকিত্সক ঢালাওভাবে এসব ওষুধ ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন বলে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাই দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।