যাকাতের কর্মমুখী বণ্টন
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৩, ১৮:৩৩
বাংলাদেশে সম্পদের সমস্যা নয়, সমস্যা হলো সম্পদের সুষম বন্টনের/ বন্টন প্রনালীর, যেমন যাকাতের বন্টন। ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো যাকাত। যাকাত প্রদান একটি ফরজ ইবাদত। যুগ যুগ ধরে ফিতরা, মানত, দান, খয়রাত, যাকাতের অর্থ কর্মহীন খাত পরনের শাড়ী, লুঙ্গী প্রদানে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু যাকাতের অর্থ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হতে পারে। যেমন যাকাতের অর্থ শাড়ী-লুঙ্গির পরিবর্তে সেলাই মেশিন, দুগ্ধবতী গাভী, ভ্যান, রিক্সা ইত্যাদি কর্মমূখী বিষয়ে প্রদান করা হলে দরিদ্রতা দুর হবে। অর্থ্যাত্ যাকাতের কর্মমূখী বন্টন হতে পারে দরিদ্রতা বিমোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। যাকাতের অর্থ দ্বারা দরিদ্রতা দূরীকরণের জন্য প্রতি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইমাম সাহেবদের সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। যদি একটি ইউনিয়নে ৬০,০০,০০০ (ষাট লক্ষ) টাকা যাকাত সংগৃহিত হয় তাহলে যাকাতের কর্মমুখী বন্টনের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রতি ইউনিয়নে ১,১০০ জন লোককে কর্মসংস্থান করা সম্ভব। এভাবে বাংলাদেশে ৪৫০১ টি ইউনিয়ন থেকে ৪৫০১ (৬০,০০,০০০ = ২৭, ০০,৬০,০০,০০০/- (দুই হাজার সাতশত কোটি ষাট লক্ষ) টাকার দারিদ্র বিমোচন ফান্ড গঠন এবং ৪৫০১ (১১০০ = ৪৯,৫১,১০০ (ঊনপঞ্চাশ লক্ষ একান্ন হাজার একশত) জনকে প্রতি বছর যাকাতের কর্মমূখী বন্টনের মাধ্যমে স্থায়ী কর্মসংস্থান করা সম্ভব। এ প্রকল্পে ১। ভিক্ষুক ২। বিধবা, ৩। স্বামী পরিত্যাক্তা, ৪। প্রতিবন্ধী, যদি প্রথম বছর ভিক্ষুকদের প্রাধান্য দেয়া হয়, তাহলে কি বাংলাদেশে পঞ্চাশ লক্ষ ভিক্ষুক আছে? অর্থাত্ প্রথম বছরেই যাকাতের কর্মমুখী বন্টনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভিক্ষুক মুক্ত হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা যাকাতের কর্মমূখী বন্টনের মাধ্যমে প্রতি বছর পঞ্চাশ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। যাকাতের মাধ্যমে আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোন সুদ, সার্ভিস চার্জ, ঋণ ফেরতের ব্যাপার নেই। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, সরকার এবং এন জি.ও সমূহ শত শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েও দরিদ্রতা দূর করতে পারছে না। অথচ প্রতি ইউনিয়নে ষাট লাখ টাকার কর্মমূখী বন্টন করা গেলে দরিদ্রতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। দরিদ্রতা বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার যাকাতের কর্মমূখী বন্টনের ব্যবস্থার উদ্যোগ সরকারকে নেয়া উচিত। যাকাতের কর্মমূখী বন্টন করলে মানুষ স্বাবলম্বী হবে, ফলে দারিদ্য সীমার নীচে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা কমে আসবে। সে সাথে ইসলামী অর্থনীতি এবং যাকাতের দর্শন বিকশিত হবে। আর এটা এই রমজান মাস থেকেই চর্চা করা দরকার।