গল্প নয় সত্যি

মাথার খুলির জাদুঘর!

চটপট দুটো প্রশ্নের উত্তর ভেবে ফেলুন তো! নানা সময়ে যত রকম জাদুঘরের কথা আপনি পড়েছেন, দেখেছেন বা কানে শুনেছেন তার মধ্যে কখনও কোনো মৃত মানুষের মাথার খুলি বা হাড় দিয়ে সাজানো জাদুঘরের কথা কি কানে এসেছে বা চোখে পড়েছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন—জীবিত মানুষের শান্তি বিনষ্ট করার জন্য নানা সময়ে অনেককে আইনের মুখোমুখি হতে হলেও মৃত মানুষের শান্তি নষ্ট (!) করার জন্য কি কখনও কাউকে অভিযুক্ত হতে দেখেছেন? প্রশ্ন দুটির উত্তর সম্পর্কে আপনার ভাবনা যাই হোক না কেন, বিশ্বের অনেকের কাছে আপাতত এই দুটো প্রশ্নের একটি উত্তর হয়েই এসেছেন অস্ট্রিয়ার রহস্যময় এক ব্যক্তি। গেল বহু বছর ধরেই স্থানীয় একটি চার্চের পাশে অবস্থিত সিমেট্রি বা সমাধি থেকে দিব্যি মৃতদের কঙ্কাল ও মাথার খুলি চুরি করে আসছিলেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশে কঙ্কাল চুরি করে তা মেডিকেলে পড়ুয়াদের কাছে বিক্রি করার নজির থাকলেও অস্ট্রিয় এই ব্যক্তির উদ্দেশ্য মোটেও তেমন কিছু ছিল না। বরং সকলের অগোচরে নিজের বাড়িতেই মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের এক জাদুঘর বানিয়ে বসেছিলেন তিনি যেখানে ৫৬টি মাথার খুলি ছাড়াও ছিল ৫৫টি নানা ধরনের মানব হাড়। ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ঠিক কবে থেকে খুলি ও কঙ্কাল চুরির কাজ করছেন কিংবা তার জাদুঘরের পৃষ্ঠপোষক ও দর্শনার্থী কারা ছিল সে সম্পর্কে এখনও তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে রহস্যময় এই ব্যক্তি ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অস্ট্রিয়ার বার্গেনল্যান্ড প্রদেশ পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, তিনি তার ৩৭ বছরের চাকরি জীবনে এভাবে মৃতদের জন্য হুমকি হওয়ার অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার হতে দেখেননি। তা ছাড়া তাকে যখন চোরাই একটি মার্কেটের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তখন তিনি কেন সুনির্দিষ্ট তিনটি খুলি ও দুটি উরুর হাড় বিক্রি করতে চাইছিলেন সেটিও পুলিশের কাছে আরেক রহস্য। কেননা এর আগে এ এলাকায় এমন কিছু হয়ে থাকলে বা ওই লোকটি এগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে সমাধিক্ষেত্র থেকে সরিয়ে থাকলে তা এত দীর্ঘ সময়ের পুলিশের চোখ এড়াত না বলেই দাবি ওই মুখপাত্রের।