গিনিতে জাতিগত দাঙ্গায় নিহত ৫৪

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনিতে জাতিগত দাঙ্গায় কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছে। দাঙ্গার কারণে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নাজারেকোরে সেনাবাহিনী নামিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় নাজারেকোরের শাসক আবু বকর মবোপ কামারা জরুরি অবস্থা জারি করেন। বুধবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও গুয়েরজে গোত্র এবং কোনিয়ানকে গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নাজারেকোরের হাসপাতালের এক চিকিত্সক বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিহতদের বেশিরভাগকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে এবং বাকিদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে নিহত ৫৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। হতাহতের মধ্যে আদিবাসী গুয়েরজে গোত্রের প্রধান হোলামোউ আজালি জগবেলেমোউ রয়েছেন। ঐ চিকিত্সক জানান, ঐ ৫৪ জন ছাড়াও মর্গে আরো কিছু মৃতদেহ রয়েছে। তবে তাদের কয়েকজনের মাথা নেই বলে তাদের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। তাদের কাছে কোন পরিচয়পত্রও পাওয়া যায়নি। যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে তাদের মৃতদেহ নিজ গোত্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দাঙ্গার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, সোমবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর কাউলের একটি পেট্রোল পাম্পে কর্মরত গুয়েরজে গোত্রের নিরাপত্তা কর্মীরা কোনিয়ানকে গোত্রের এক কিশোরকে চুরির দায়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে। দ্রুত এ সংবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে নাজারেকোরেসহ আশেপাশের শহরে উভয় গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, দাঙ্গার সময় একে অন্যের ওপর চাপাতি, ছুরি, কুড়াল, লাঠি, পাথর এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। দাঙ্গাকারীরা প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। দেশটির রাজধানী কোনাক্রি থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত নাজারেকোরের ঘটনায় ৮০ জনের বেশি হতাহত হলেও কর্তৃপক্ষ মৃতের সংখ্যা ১৬ জন বলে দাবি করেছে। দুই মাস পরে দেশটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। লাইবেরিয়ার সীমান্ত শহর নাজারেকোরে জাতিগত দাঙ্গা একটি সাধারণ ঘটনা। আদিবাসী গুয়েরজে গোত্রের লোকজন খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী কিংবা সর্বপ্রাণবাদী অন্যদিকে কোনিয়ানকে গোষ্ঠীর লোকজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী। এরা লাইবেরিয়ার মান্দিগো গোত্রের অনুসারী।