বিহারে ব্যাপক বিক্ষোভ
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৩, ২১:২৪
ভারতের বিহার রাজ্যের একটি স্কুলে বিনামূল্যে দেয়া খাবার খেয়ে ২২ শিশুর মৃত্যুর পর উত্তেজিত জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাংচুর চালিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোও ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-ধর্মঘট ডেকেছে। রাজ্যের সারান এলাকার ধর্মসতী গান্দামানে বিক্ষোভ করেছে শত শত গ্রামবাসী ও অভিভাবক। তারা পুলিশের চারটি গাড়িতে আগুন দেয়।
স্থানীয় জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে এসে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং রেলওয়ে স্টেশনের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ধর্মসতী গান্দামান ও ছাপরায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে। টিভিতে ছাপরা এবং পাটনায় অধিবাসীদের বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনে পাথর ছুঁড়ে মারে, আগুন দেয় বাস ও অন্যান্য যানবাহনে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের কুশপুত্তলিকা পোড়ায় তারা।
বিহারের প্রাদেশিক রাজধানী পাটনা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ছাপরার কাছে একটি স্কুলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শিশু মুত্যুর ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। প্রাথমিকভাবে ৮ শিশু মারা গেলেও পরে বুধবার এ সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়ায়। মৃত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স অনূর্ধ্ব ১০ বছর। ঘটনার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষয়িত্রী পালিয়ে যান। রান্নার তেলে উত্কট গন্ধের কথা জানালেও তা দিয়েই তিনি বাবুর্চিকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিলেন।
চিকিত্সকরা খাদ্যে অরগানোফসফরাসের উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। কয়েকটি শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। চিকিত্সকরা শিশুদের বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খাদ্যে বিষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, তাদের সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শত শত মানুষ স্থানীয় পুলিশ স্টেশন ঘেরাও করে স্কুলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব বলেন, ‘বিহারের সর্বত্র এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর পেছনে যারা রয়েছে আমি তাদের খুঁজে বের করব।’