মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ইনজুরিটা বড় কিছু ছিল না। তার পিঠে ব্যথা। তবে, বিশ্বকাপের আগে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি টিম ম্যানেজমেন্ট নিতে চায় না বলেই অভিষেক হয়ে গেল আবু জায়েদ রাহির। রাহি অবশ্য গতকাল ডাবলিনে বলার মত কিছু করতে পারেননি। নয় ওভার বল করে ৫৬ রান হজম করেছেন।
রাহির নিষ্প্রভ দিনে অবশ্য বাকি বোলাররা বেশ দারুণভাবেই জ্বলে উঠেছেন। বেশি জ্বলেছেন বাকি দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগের ম্যাচে বেশি রান হজম করেছিলেন বলে বাঁ-হাতি মুস্তাফিজকে কম সমালোচনা হজম করতে হয়নি। সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে চার উইকেট পেয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, রানও দিয়েছেন গুনে গুনে। নয় ওভারে তিনি দিয়েছেন মাত্র ৪৩ রান।
অন্যদিকে মাশরাফি টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ৩৬ ছুইছুই বয়সেও বাংলাদেশের অধিনায়ক আছেন বেশ ছন্দে।
আলাদা করে বলতে হয় সাকিব আল হাসানের কথা। তিনি ১০ ওভার বোলিং করে একটা উইকেট পেয়েছেন। যদিও, উইকেট সংখ্যা দিয়ে সাকিবের বোলিংয়ের গুরুত্ব বোঝানো যাবে না। তিনি রান দিয়েছেন মাত্র ২৭টা। মাঝের ওভারগুলোতে তিনি ক্যারিবিয়ানদের এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন বলেই বাকিদের জন্য উইকেট নেওয়াটা সহজ হয়েছিল।
স্পিন আক্রমণে সাকিবের সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভার বল করে ৪১ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি এদিন ছয় বোলার ব্যবহার করেন। দু’টি ওভার করেন পার্টটাইম মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হয়ে গতকালও বড় ইনিংস খেলেন শাই হোপ। একটি ছক্কা ও ছয়টি চারের সৌজন্যে তিনি এবার করেন ৮৭ রান। যত দিন যাচ্ছে ততই বাংলাদেশকে আরো বেশি ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ বানিয়ে ফেলছেন এই ওপেনার।
আর বলার মত স্কোর গড়তে পেরেছেন কেবল অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। তিনি ৬২ রান করেন। ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা।
বাংলাদেশের বোলিং দাপটের দিনে স্কোরটাকে ২৫০-এর গন্ডিও পার করাতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে দলটি করে ২৪৭ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে গতকালই অভিষেক হয়ে গেছে রেয়মন রেইফারের। ব্যাটিংয়ে অবশ্য সাত রানের বেশি করতে পারেননি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। মজার ব্যাপার হল এই রেইফারের চাচাতো ভাই ফ্লয়েড রেইফারই এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কোচ!