শিশু উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার অনন্য স্বীকৃতি

মালালা দিবসে জাতিসংঘ পুরস্কার পেল জলঢাকার সাহসী যুবক কেশব

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার শিশু সংগঠক কেশব রায় জাতিসংঘের সম্মানজনক ‘ইয়ুথ কারেজ এ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশন’ পুরস্কার পেয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। গত ১২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ ভবনে মালালা দিবসের এক বিশেষ কর্মসূচিতে জাতিসংঘের শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ দূত ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের হাত থেকে কেশবের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেছে শিশু উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল-এর আমেরিকান প্রতিনিধি। নিজ এলাকায় শিশু বিয়ে বন্ধে গণসচেতনতা তৈরিতে এবং সমাজের ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলমুখি করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কার হাতে না পেলেও ইতিমধ্যে গর্ডন ব্রাউনের অভিনন্দন সূচক চিঠি হাতে পেয়েছে কেশব। চিঠিতে কেশবকে বিশ্বের যুব সমাজের নেতা ও রোল মডেল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এমনকি গর্ডন ব্রাউন তাঁর বক্তব্যে কেশবের কর্মকাণ্ড ও অর্জন সমবেত বিশ্ব যুব সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। জলঢাকা উপজেলার প্রত্যন্ত কৈমারী ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি এলাকার ওজিন্দ্র রায়ের ছেলে কেশব চন্দ্র রায়। যে বয়সে শিশুরা লেখাপড়া, খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে ঠিক সেই সময়ে তার বাবার জটিল অসুস্থতার কারণে কেশবকে পরিবারের হাল ধরতে একটি দোকানে কাজ করতে হয়। ১ বছর পর বাড়ির পার্শ্ববর্তী বিভূতি রায়ের অনুপ্রেরণায় ও প্ল্যান বাংলাদেশ পরিচালিত শিশু দলের সহযোগিতায় সে আবারও লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করে। পড়াশুনার পাশাপাশি সে শিশু দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্ল্যান বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন ও জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। শিশু অধিকার, শিশু সুরক্ষা, জীবন দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেশব সাফল্যের সাথে এসএসসিও পাস করে। জলঢাকা বিএমআই ইন্সটিটিউট’র দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র কেশব বর্তমানে উপজেলা শিশু ফোরামের সভাপতি ও জাতীয় শিশু টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন ফোরামে অংশ নিয়ে শিশু বিয়ে বন্ধ, ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলগামী করাসহ শিশু অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও তার নেতৃত্বে নিজ গ্রামের শিশু দলের মাসিক সভা ও সাপ্তাহিক পাঠচক্রের আসর পরিচালনাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়ে আসছে। কেশব জানায়, এ যাবত্ সে ২৫টি শিশু বিয়ে বন্ধ এবং ৫০টি ঝরে পড়া শিশুকে স্কুলমুখি করেছে। প্ল্যান বাংলাদেশের সহযোগিতায় শিশু সংগঠক কেশব ২০১২ সালে শ্রীলংকায় শিশু সমাবেশে ও ২০১৩ সালে ব্যাংককে শিশু সুরক্ষা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছে। মালালা দিবসে জাতিসংঘ পুরস্কার অর্জনের মধ্যদিয়ে কেশবের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে। পড়ালেখা শেষ করে সে শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়। তার এ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানাতে তার বাড়িতে লোকজন ভিড় করছে। কেশবের মোবাইল ফোন নাম্বারঃ ০১৭৫৫২২৫২১৭।