হাউজিংয়ের নামে সরকারি
জমি দখলের মহোত্সব
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৩, ২২:১৭
সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এছাড়াও তারা হাত বাড়িয়ে বিভাগীয়সহ বড় বড় জেলা শহরের সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে মেতে উঠেছে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় তারা সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। হাউজিং কোম্পানি সরকারি জমি দখলে নিয়ে প্লট আকারে সাধারণ লোকদের নিকট বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে। আর এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি জমি দ্রুত উদ্ধারের সুপারিশ করেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আ. ক. ম. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা বিগত বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার সময় গুরুত্ব পায় তিন জেলায় সরকারি জমি হাউজিং কোম্পানির দখলে থাকার বিষয়টি। বৈঠকে বলা হয়, বিভিন্ন নামের হাউজিং কোম্পানি বা ডেভেলপার ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
সূত্র জানায়, হাউজিং কোম্পানিগুলো কি করে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করেছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। সে সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে অবৈধ দখলে থাকা জমি দ্রুততার সাথে উদ্ধার করা প্রয়োজন। সরকারি জমি দখল করে হাউজিং কোম্পানি প্লট বানিয়ে সাধারণ লোকের মাঝে কোনভাবেই বিক্রি করতে পারে না। এটি রীতিমত প্রতারণা। কমিটি জমি উদ্ধার ছাড়াও দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
এদিকে কমিটি অনতিবিলম্বে ময়মনসিংহ জেলার কৃষ্ণপুর মৌজার ৫ দশমিক ৯৮ একর খাস জমি উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়কে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে দ্রত কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া খাস জমি কি করে অবৈধ দখলে গেছে এবং এর সাথে কে বা কারা জড়িত তাও চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে সরকারি জমি নিয়ে আদালতে যেসব মামলা রয়েছে তা দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়। অপরদিকে কমিটি দ্রুততার সাথে বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সীমানা পরিমাপের নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছে।
কমিটির সদস্য ভূমি মন্ত্রী মো. রেজাউল করিম হীরা, প্রতিমন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এ. কে. এম. হাফিজুর রহমান, মো. শাহাব উদ্দিন এবং মতিউর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। ভূমি সচিব মো. মোখলেছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।